রাঙ্গামাটির জুরাছড়ির ৬৫টি বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই শহীদ মিনার নেই

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৪:২১

রাঙ্গামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় ৬৫টি প্রাথমিক ও ছয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার। যদিও সরকারি আদেশ অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা বাধ্যতামূলক। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শহীদ মিনার তৈরি হয়নি। এতে শিক্ষার্থীরা জানতে পারছে না ভাষা দিবসের সঠিক তাৎপর্য, জানাতে পারছে না ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা।

জানা গেছে, ১৬ ডিসেম্বর, ২৬ মার্চ এবং ২১ ফেব্রুয়ারি এলে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের যেতে হয় উপজেলা প্রশাসন নির্মিত শহীদ মিনারে। দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের পথ পাড়ি দিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শহীদ মিনারে যাওয়ার জন্য বিপাকে পড়তে হয়। 

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা কৌশিক চাকমা বলেন, 'অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শহীদ মিনার নেই। সরকারি কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া বিজয় দিবস, শহীদ দিবস যথাযোগ্যভাবে পালনে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।'

উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৬১টি সরকারি ও চারটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনোটিতেই শহীদ মিনার নেই। এছাড়া আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ভুবন জয় সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ও বনযোগীছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার রয়েছে। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, জুরাছড়ি উপজেলা প্রশাসন নির্মিত শহীদ মিনারের অবস্থান শিশুপার্কের কাছে। এটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে।

প্রবীণ শিক্ষক ও শিক্ষানুরাগী ধল কুমার চাকমা বলেন, 'আমাদের জাতিসত্ত্বার প্রথম উন্মেষ ঘটে ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। ভাষা শহীদদের প্রতি যথার্থ মর্যাদা দিতে হলে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার নির্মাণ জরুরি।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধান শিক্ষক বলেন, একুশ এলেই আমরা শুধু মাতৃভাষার মর্যাদার কথা ও শহীদ দিবসের কথা বলি। এরপর ভাষা শহীদদের কথা কারো মনে থাকে না। প্রতিবছর বিভিন্ন খাতে অনেক টাকা বরাদ্দ এলেও শহীদ মিনার নির্মাণে কেউ নজর দিচ্ছেন না।'

ভাষা আন্দোলন ও অমর একুশে ফেব্রুয়ারির সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে শিশু শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণের দাবি স্থানীয় অভিভাবকদের।এ বিষয়ে জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিতেন্দ্র কুমার নাথ বলেন, 'আগামী উন্নয়ন সমন্বয় সভায় শহীদ মিনারের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করব। যে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই পর্যায়ক্রমে সকল বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে।'

উপজেলা চেয়ারম্যান সুরেশ কুমার চাকমা বলেন, 'স্বাধীনতার ৫০ বছরেও জুরাছড়িতে অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। বিদ্যালয়গুলোতে ভবন নির্মাণ ও সংস্কারের কাজের সাথে শহীদ মিনার নির্মাণেরও উদ্যোগ নেওয়া হবে।'

ইত্তেফাক/এসটিএম