পঞ্জিকায় মাঘের পর ফালগুন এলেও শীতের ভ্রুকুটির শেষ হয়নি। আকাশে বাতাসে বসন্তের আমেজ না থাকলেও বসন্ত এসে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় প্রকৃতিতে চলছে খেয়ালিপনা। উত্তরাঞ্চলের জনপদগুলোতে পুরোমাত্রায় শীতার্ত অনুভূতি। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রির ঘরে।
দিবাভাগে তাপমাত্রা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে সকাল অব্দি শীতের পরশ টের পাওয়া যাচ্ছে। কুয়াশাও ঘিরে রাখছে। মধ্যদুপুরের রোদও দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না। গতকাল পর্যন্ত ঢাকার তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও স্বাভাবিকের নিচেই আছে। তবে আগামীকাল থেকে বসন্তের প্রকৃত তাপমাত্রায় ফিরবে আকাশ-বাতাস-প্রকৃতি। চড়বে পারদ। আবহাওয়া দপ্তর বলছে, রাজধানী ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৭ ডিগ্রিতে পৌঁছুবে। দেশের সর্বত্র বিদায় নেবে শীত।
এদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও পুবালি হাওয়ার সংঘাতে বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের বজ গর্ভ মেঘের সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। এর প্রভাবে আগামীকাল রবিবার ধেয়ে আসছে অকাল বৃষ্টি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. হাফিজুর রহমান জানান, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে আগামীকাল রবিবার অথবা সোমবার বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে। তবে এ বৃষ্টির কারণে নতুন করে শীত জেঁকে বসার কোনো সম্ভাবনা নেই। সাধারণত আকাশ মেঘলা থাকলে বা বৃষ্টি হলে শীতের অনুভূতি একটু বাড়ে। এক্ষেত্রেও তেমনটাই হবে। তখন তাপমাত্রার তারতম্য তেমন হবে না।
কানাডার সাচকাচুন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ ইত্তেফাককে বলেন, আগামী তিন সপ্তাহে তিনটি ভিন্ন ভিন্ন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চার দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। ২০ ফেব্রুয়ারি খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে দুপুরের পর থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হবে। ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি হবে রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোতে। ৩-৪ মার্চ বৃষ্টি হবে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলো। আগামীকাল রবিবার দুপুর ১২টার পর থেকে খুলনা বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ার সম্ভাবনার কথা নির্দেশ করছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস মডেল।
এই আবহাওয়া গবেষক বলেন, জেট স্ট্রিমের প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হবে। প্রথম জেট স্ট্রিমটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে আজ থেকে ২২ ফেব্র‚য়ারি পর্যন্ত। দ্বিতীয় জেট স্ট্রিমটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে প্রবাহিত হবে ২৩ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি। যার প্রভাবে রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা ও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম বিভাগে জেলাগুলোর ওপর হালকা থেকে মাঝারি মানের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে। আজ আংশিকভাবে মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। ভোরের দিকে দেশের নদী অববাহিকার কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা কুয়াশা পড়তে পারে। এছাড়া সারা দেশের রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারের টেকনাফে ৩০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় রেকর্ড করা হয় ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
