কেনাকাটায় কার্ডের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে। করোনার প্রকোপ কমতে শুরু করায় দেশে সব ধরনের কার্ড ও অনলাইন লেনদেন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। তাছাড়া গ্রাহকরা এটিএম বেশি ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে দেশে ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার ২৯১টি। ২০২১ সাল শেষে সেটা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৯টি। এক বছরের ব্যবধানে কার্ড বেড়েছে ৩৯ লাখ ৮ হাজার ৫৬৮টি। কার্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও। ডিসেম্বরে ডেবিট কার্ডে লেনদেন হয়েছে ২৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। একক মাস হিসাবে এর আগে কখনো এত লেনদেন হয়নি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ডিসেম্বর শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৭৬ হাজার ৮১৬টি। ২০২১ সাল শেষে সেটা বেড়ে ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬২টিতে দাঁড়িয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে কার্ড বেড়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪৬টি। অবশ্য ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ডে রেকর্ড ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এর আগে কখনো ক্রেডিট কার্ডে এক মাসে এত লেনদেন হয়নি।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার প্রকোপ কমে আসায় জীবনযাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। আবার অর্থনীতির কর্মচাঞ্চল্যও ফিরে এসেছে। তাই মানুষ খরচও বেশি করছে। এখনো দেশের বড় অংশের মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন নগদ টাকায় হচ্ছে। পাশাপাশি কার্ডের মাধ্যমেও প্রতি মাসে প্রায় ২৫ থেকে ২৬ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়, যা আর্থিক খাতের মোট লেনদেনের তুলনায় হয়তো সামান্যই। তবে দিনকে দিন কার্ডে লেনদেন বাড়ছে। সম্প্রতি কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে ই-কমার্সে লেনদেন অনেক কমে গেছে। সেটি না হলে কার্ডে লেনদেন আরো বাড়ত।
উল্লেখ্য, করোনার সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের উত্সাহিত করেছে ব্যাংকগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের সব ব্যাংকই এখন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এসব সেবায় যোগ হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন সিআইবি রিপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড কার্ড, ভিসা কার্ড এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির এটিএম। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন ও জমা, রেমিট্যান্স, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও বেতন-ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন শুরু