নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে যোগ্যতার কোনো ভিন্নতা নেই: তাসমিমা হোসেন

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:৫৪

দৈনিক ইত্তেফাক ও পাক্ষিক অনন্যা সম্পাদক তাসমিমা হোসেন বলেছেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও সমাজে নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক মনে করার মানসিকতা দেখা যায়। এজন্য দায়ী পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা। শনিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী: উন্নয়নে নারী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে সম্মানিত আলোচক হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করলেও সামন্ততান্ত্রিক মানসিকতা ও ধারণা থেকে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই বেরিয়ে আসতে পারিনি। নারী কতটা যোগ্যতা দেখাতে পারবে তা নির্ভর করে, তাকে কীভাবে বড় করা হয়েছে সে-বিষয়টির ওপর। নারী বা পুরুষের ক্ষেত্রে যোগ্যতার কোনো ভিন্নতা নেই। যোগ্যতা অর্জনের জন্য যে অধিকার দরকার তা নারীরা পায় কিনা সেটা বিবেচনা করতে হবে। স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নারীর প্রতিনিধিত্ব আজ লক্ষ্যণীয়। কিন্তু পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি করে রাখার চেষ্টা আজো দেখা যায়। সুযোগ পেলে ঘরে ও বাইরে নারী তার যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারে। নারীর উন্নয়নে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো নারীবিরোধী নেতিবাচক মানসিকতা।

আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন। এছাড়াও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম। 

এ সময় প্রাবন্ধিক অধ্যাপক ড. জোবাইদা নাসরীন বলেন, নারীদের মুক্তিযুদ্ধের শুধু বীরের স্বীকৃতি প্রদানই নয়; যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বাধীন দেশে এই বীর নারীদের পুনর্বাসন করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নারী পুনর্বাসন কেন্দ্র। শুধু বীর নারীর মর্যাদার মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে যায়নি নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের নারীর মনবাধিকার নিশ্চিতের বিষয়টি; ১৯৭২ সালে রচিত সংবিধানে নারীর মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে কর্মক্ষেত্রে নারীর ইতিবাচক অগ্রগতি আমাদের অনেকটাই আশার জায়গা তৈরি করেছে। এর বিপরীতে নারীর নিপীড়ন এবং নির্যাতনের চিত্রটিও কম ভয়াবহ নয়। নারীর জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তা বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতিকে সুনিশ্চিত করবে।  

ডা. ফওজিয়া মোসলেন বলেন, যেকোনো দেশের জাতীয় বিকাশে নারীর যেমন ভূমিকা থাকে আবার এই বিকাশের মাধ্যমে নারীরও উন্নয়ন ঘটে। নারী আন্দোলন একরৈখিক আন্দোলন নয়। নারী আন্দোলনের কেন্দ্রেই আছে লৈঙ্গিক সমতা অর্জন। টেকসই উন্নয়নের একটি শর্ত হলো সকল ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য ও সহিংসতা দূর করা।  

নাছিমা বেগম বলেন, নারী ও পুরুষকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে যেদিন মানুষ হিসেবে দেখা হবে সেদিনই বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত সমতার সমাজ তৈরি করতে সক্ষম হবে। নারীকে তার অধিকার আদায়ে সোচ্চার হতে হবে। পাশাপাশি পরিবার থেকেই শিশুকে নৈতিক মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। একই সাথে নারীর প্রতি সম্মানজনক দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। 

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি