আনোয়ারা উপজেলার মানুষ যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। যত্রতত্র অবৈধ সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং শিকলবাহা থেকে কালাবিবির দীঘির মোড় পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের কাজ চলায় নিত্যদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়তে হচ্ছে। এদিকে আনোয়ারা উপজেলাসহ চন্দনাইশ, বাঁশখালী, পেকুয়া ও কক্সবাজার অভিমুখী যাত্রীদেরও বিপাকে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া বৃহস্পতি ও শুক্রবার এলেই যেন ভোগান্তি দ্বিগুণ হয়ে যায় এমন অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার চাতরী চৌমুহনী ঘুরে দেখা যায়, বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত একটানা চার ঘণ্টা যানজট ছিলা রাত ৯টার পর থেকে যান চলাচল একটু স্বাভাবিক হলেও গাড়িভাড়া হয়ে যায় স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা আর ২০ টাকার ভাড়া ৪০-৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। শুক্রবার দুপুর থেকে রাত ১০-১১টা পর্যন্ত ছিল যানজট। যানজটের কারণে চাতরী চৌমুহনী থেকে কালাবিবির দীঘির মোড়, এমনকি শহর থেকে আসার সময় মাঝপথ থেকে অনেককেই হেঁটে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। এই দিনে যানজট নিরসনে ট্রাফিকের ভূমিকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রোগী নিয়ে চমেক হাসপাতালে যাওয়া এক যাত্রী জানান, তার মা আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তার মাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঘণ্টা ধরে যানজটে আটকা পড়েন।
শহর থেকে চাতরী চৌমুহনী আসা আরাফাত হোসেন নামের এক যাত্রী বলেন, ‘সন্ধ্যার যানজটের ভয়ে দ্রুত আসার জন্য কর্ণফুলী ব্রিজ পার হয়ে ওখান থেকে সিএনজি অটোরিকশায় করে চৌমুহনী আসছিলাম। ফাজিলখাঁর হাটে এসে দুই ঘণ্টা যানজটের কবলে পড়ে যাই। শেষে অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে হেঁটে চৌমুহনী আসলাম।’
এদিকে রাত ১১টার পর থেকে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সিএনজি অটো রিকশাচালকদের বিরুদ্ধে। আনোয়ারা-চন্দনাইশের সিএনজি অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ‘আগে সন্ধ্যার পর চৌমুহনী থেকে বরকল ব্রিজে ছয় বার আসা-যাওয়া করতে পারতাম। কিন্তু এখন জ্যাম ঠেলে ঠেলে একবার এসে আবার যেতে রাত ১০-১১টা বেজে যায়। মালিককে টাকা দিয়ে নিজেরে পকেটে ২০০-৩০০ টাকা রাখতে কষ্ট হয়ে যায়। তাই মাঝে মাঝে ১০-২০ টাকা বেশি দাবি করি।’
চাতরী চৌমুহনী ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ (টিআই) হাবিব হাসান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, ‘গত কয়েক মাস ধরে শিকলবাহা থেকে কালাবিবির দীঘির মোড় পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। আর মাঝখানে কয়েকটা কালভার্ট ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন আটকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। যানজট নিরসনে আমরা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের জনবলের সংকট রয়েছে, যার ফলে যানজট এড়াতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। এবার যখন বিষয়টি জেনেছি, ব্যবস্হা নেব।’
