নিরাপত্তাকর্মীর চাকরির নামে প্রতারণা করতেন এই দম্পতি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৮:৫৪

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে খুলনার বাগেরহাট থেকে ঢাকায় এসেছেন সুজন বর্মণ। উদ্দেশ্য, সিকিউরিটি কোম্পানির সহকারী সুপারভাইজার পদে চাকরি করবেন। কিন্তু চাকরি নিতে আসা সুজনকে বলা হয়, তার মতো আরও তরুণদের নিয়ে আসতে। কিন্তু এক মাসেও কাউকে না আনতে পারায় কোনো টাকাই পাননি সুজন। তার ওপর এই এক মাস অমানবিক কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এমনই প্রতারণা ফাঁদ পেতেছিল স্বামী-স্ত্রী সামসুন্নাহার ওরফে মায়া (৩৩) ও তার স্বামী মো. জুয়েল ভূঁইয়াসহ আরও জন।

আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার প্রতারণার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরখান থানার আটিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীসহ এমনই একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কাওরান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান,  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এসএসসি পাসে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের বেকার তরুণদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল চক্রটি। তারা সাবেক সেনাকর্মকর্তার বডিগার্ড, বাসা বাড়ির নিরাপত্তা রক্ষী, সুপারভাইজারসহ বিভিন্ন পদে চাকরি বিজ্ঞাপন দিতো। তাদের বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে জীবন বৃত্তান্ত জমা নেওয়া হতো। কয়েকদিন পর যোগাযোগ করে বলা হতো, চাকরি হয়েছে। তবে ট্রেনিংসহ বিভিন্ন খাতে ১২ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। এরপর চাকরি না দিয়ে তাদের বলা হতো তাদের মতো আরও চাকরিপ্রার্থী খুঁজে নিয়ে আসতে। চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহ করতে পারলে পার্সেন্টেজ হিসেবে ১ হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হবে। মাসে অন্তত ১৪ জনকে সংগ্রহের টার্গেট দেওয়া হতো।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার প্রতারক চক্রের সদস্যরা হলো কথিত সিনথিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসেস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সামসুন্নাহার ওরফে মায়া (৩৩) ও তার স্বামী মো. জুয়েল ভূঁইয়া, কামরুজ্জামান ওরফে ডেনিস (২৪), ফারহানা ইয়াছমিন ওরফে সুবর্ণা আক্তার (২৩), মেহেদী হাসান(২১), আল মামুন ওরফে মাসুদ (২১) ও তাজবির হাসান ওরফে লোহান (১৯)। র‌্যাব জানিয়েছে, এই চক্রের মূলহোতা স্বামী-স্ত্রী। প্রত্যেকের কাছ থেকে ১২ হাজার ৫০০ টাকা করে আদায় করা হতো। এ পর্যন্ত সাত থেকে আটশ জনের সঙ্গে প্রতারণার করেছে।

এ সময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি ভুয়া নিয়োগপত্র, ৮০টি জীবন বৃত্তান্ত ফরম, ভিজিটিং কার্ড, টাকা আদায়ের রশিদ, ১০১টি ভর্তির ফরম ও অঙ্গীকারনামা, ভুয়া সিল, ১৫ টি আইডি কার্ড, তিনটি রেজিস্টার, ৮টি মোবাইল ফোন ও নগদ ২০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন আরও জানান, চক্রটি এ পর্যন্ত সাত থেকে আটশ লোকের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। তারা এই টাকাগুলো কোন খাতে ব্যয় করতো জানতে চাইলে র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা অর্থ পাচারের কোনো তথ্য পায়নি। তবে এ অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবন-যাপন করতো এবং তাদের কোম্পানির প্রচারণার জন্য এ টাকা দিয়ে ফেসবুক বুস্টিং চালাতো।

যাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া কি হবে এবং এর আগেও তারা এমন কোনো প্রতারণার সঙ্গে জড়িত আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত ১৭ জন ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছি, তারাই এই মামলার বাদী হবেন। এছাড়া তাদের আগের কোনো প্রতারণার তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে কোম্পানির এমডি অর্থাৎ মায়া আগে অন্য আরেকটি ভুয়া সিকিউরিটি কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং সেখান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুনভাবে প্রতারণা শুরু করেন। তারা ৮ মাস ধরে এই কাজ করে আসছিল।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, এর আগেও আমরা এইরকম প্রতারণার জন্য গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। কিন্তু দেখা গেছে তারা জামিনে বের হয়ে অন্য নাম দিয়ে একই ধরনের কোম্পানি খুলে বসে। গণ্যমাধ্যমের মাধ্যমে সারা বাংলাদেশের মানুষকে বলতে চাই, কোনো ভুয়া বিজ্ঞান দেখে প্রতারিত হবেন না। চাকরি নেওয়ার আগে যাচাই করে নিবেন।

 

ইত্তেফাক/কেএইচ/জেডএইচডি