পূর্ব ইউক্রেনে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত বিচ্ছিন্ন দুই অঞ্চলকে স্বীকৃতি দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ নিয়ে এক আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এর পরপরই পূর্ব ইউক্রেনের ওই দুই অঞ্চলে রাশিয়ার সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
এই ঘোষণার পর পশ্চিমা বিশ্বে উত্তেজনা নতুন মাত্রা ধারণ করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ডাকা হয়েছে জরুরী বৈঠক। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এর সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা পরিষদে ডাকা জরুরী বৈঠক মুলতবি ঘোষণা করা হয় ৯০ মিনিট পরে।
বৈঠকে ইউক্রেনের প্রতিনিধি সার্জেই কিসলিতসা দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার কারণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ‘অবৈধ’ আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানান।
এসময় তিনি রাশিয়াকে এমন একটি ‘ভাইরাস’ এর সঙ্গে তুলনা করেছেন যা বিশ্বকে প্রভাবিত করছে। এমনকি জাতিসংঘকেও যা সংক্রমিত করছে। সার্জেই কিসলিতসা বলেন, ‘জাতিসংঘ অসুস্থ, এটি ক্রেমলিনের ছড়ানো ভাইরাসে সংক্রমিত।’
এদিকে, পুতিন কর্তৃক স্বাধীন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া ওই অঞ্চল হচ্ছে দোনেস্ক পিপলস রিপাবলিক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, দোনেস্ক পিপলস রিপাবলিক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিককের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে অবিলম্বে স্বীকৃতি- আমি মনে করি এমন একটি সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া উচিত ছিল।
পুতিনের এমন সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট ন্যাটো। ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ বলেন, 'আমি স্বঘোষিত দোনেস্ক পিপলস রিপাবলিক ও লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিক-কে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য রাশিয়ার সিদ্ধান্তের নিন্দা করছি।'
এছাড়া পুতিনের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়ার এই সিদ্ধান্ত হবে 'আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন' হবে।
