পা দিয়ে লিখেই এইচএসসি পাস করেছেন ফজলু

আপডেট : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৯:৩৬

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার চর গোপালপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে ফজলুর রহমান জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুই হাত ও একটি পা নেই। তিনি এক পা দিয়েই চলেন এবং সেই পা দিয়েই লেখেন। মনের জোর ও ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফজলুর উপজেলার দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন। জিপিএ-২.৭৫ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

শারীরিক প্রতিবন্ধী ফজলুকে কলেজে নিয়ে যাওয়া আসার কাজ করতেন তার ছোট বোন আসমা। সেও এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৩.৩৩ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। 

ফজলু জানায়, খুব কষ্টে এক পা দিয়ে লাফিয়ে তিন কিমি দূরে মিটুয়ানী উচ্চ বিদ্যালয়ে যাওয়া আসা করেছি। বই-খাতা-কলম বোন আসমা নিয়ে যেতো। সে স্কুলে না গেলে আমার যাওয়া হতো না। এই রেজাল্ট করতে পেরে আমি আনন্দিত। অভাব আমাকে সবসময়ই তাড়িয়ে বেড়ায়। একটি চাকরি আমার জীবনের পরিবর্তন করে দিতে পারে। সবার সহযোগিতায় আমি অনেকদূর এগিয়ে যেতে চাই।

ফজলুর বাবা দিনমজুর সাহেব আলী বলেন, দিনমজুরের কাজ করে কোন মতো সংসার চালাই। সন্তানদের পড়াশোনার খরচ যোগানো অসম্ভব। অভাবে কোনদিন প্রাইভেট পড়াতে পারিনি, সঠিক সময়ে বইও কিনে দিতে পারিনি। ফজলুর নামে একটি ভাতা কার্ড আছে। তা দিয়েই লেখাপড়ার খরচ চলে। নয়জনের সংসার দিনমজুরের অর্থে নির্ভরশীল।

পা দিয়ে লিখছেন ফজলুর রহমান। ছবি: ইত্তেফাক

তিনি আরও বলেন, ২০১৭ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পেরে ৭৬ হাজার টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছিলেন সমাজকর্মী সাংবাদিক মামুন বিশ্বাস। সে টাকা দিয়ে চলছে পড়াশোনা। টাকা টা না পেলে হয়তো পড়তেই পারতো না।

ফজলুর মা সারা খাতুন বলেন, ২০০০ সালে ফজলু বিকলাঙ্গ অবস্থায় জন্ম নেয়। ছোট মেয়ে আসমা ফজলুকে লেখাপড়ায় সাহায্য করে। কিছু কাজ ফজলু নিজেই করতে পারে। কিছু কাজে তাকে সাহায্য করতে হয়।

দৌলতপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জানান, ফজলু লেখাপড়ায় ভালো, স্মরণ শক্তি প্রখর। তার ফলাফলে আমরা খুশি। তার পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা প্রয়োজন। ফজলুর জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা করা উচিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি, ফজলুকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতেন হয়তো তার পরিবার ভালোভাবে চলতে পারতো।

সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস বলেন, ফজলুর পড়াশোনার ইচ্ছা দেখে এসএসসিতে ফেসবুকের মাধ্যমে ৭৬ হাজার টাকা অনুদান তুলে দিয়েছিলাম। এ টাকা দিয়েই এতদিন লেখাপড়া চলেছে। তার পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি একটি সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতেন হয়তো ফজলুর পড়ালেখার কাজে লাগতো।

ইত্তেফাক/এএএম