সরকার সুলভ মূল্যে ( ভর্তুকি) সারাদেশে এক কোটি হতদরিদ্র পরিবারকে চাল-ডাল, তেল লবণ, আটা চিনিসহ ছয়টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করবে। বছরে চার দফা এই পণ্য পাবে এসব পরিবার। আগামী এপ্রিল মাসের প্রথমে ও শেষার্ধে ও জুলাই মাসে আরও দুই দফায় এ সহায়তা দেয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী টিসিবি বাস্তবায়ন করবে। বিদ্যমান যেসব খাদ্য সহায়তা কর্মসূচী চালু আছে এটি হবে তার অতিরিক্ত।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিঞা এ বিষয়ে ইত্তেফাককে জানান, বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে কসকোর মাধ্যমে যেভাবে ন্যায্যমূল্য পণ্য সরবরাহ করা হত ঠিক সে আদলে এ কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিন পর এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁরই নির্দেশে করোনাকালীন সময়ে ৩৮ লাখ হতদরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। এসব পরিবার সহ নতুন করে আরও ৬২ লাখ পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করে মোট এক কোটি পরিবারকে সহায়তার আওতায় আনা হচ্ছে।
সিনিয়র সচিব জানান, এই পণ্য বিক্রিরকাজে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। উপজেলা অধিক্ষেত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে চেয়ারম্যানদের কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে। একজন প্রথম শ্রেণীর কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসাবে রাখা হয়েছে। সংসদরা কমিটির উপদেষ্টা , পৌরসভার ক্ষেত্রে মেয়রের প্রতিনিধি সিটি করপোরেশনের মেয়র উপদেষ্টা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কমিটির প্রধান থাকবেন। জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি থাকবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করবেন। পরিবার চূড়ান্ত বাছাইয়ের কাজও থাকছে তার ওপর। প্রতিকার্ড প্রতিবার ভিত্তিতে নির্ধারিত পরিমাণ পণ্য দেয়া হবে। একটি পরিবার মাত্র একবারের জন্য খাদ্য পাবেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে ডিলারের মাধ্যমে এই পণ্য সরবরাহ করা হবে। যদি কোন কারণে পণ্য অবিক্রীত থেকে যায় তবে তা গুদামে ফেরৎ যাবে না। কমিটি তাৎক্ষনিকভাবে সিদ্ধান্তে তা অন্যদের কাছে বিক্রি করে দিতে পারবে।
আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব মো, তোফাজ্জল হোসেন মিঞা দেশের সকল জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করবেন। ইতিপূর্বে তিনি কয়েকটি ভাগে ভাগ করে বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
সিনিয়র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ভিশন বাস্তবায়নে কোন অনিয়ম দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না। প্রকৃত হতদরদ্রিদের তালিকা যাতে নির্ভুলভাবে হয় সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকদের আজ নির্দেশনা দেয়া হয়। পণ্যসমূহ যেহেতু জেলা প্রশাসকের কর্তৃত্বে থাকবে সে জন্য তাদের কি কি করনীয় সে বিষয়েও নির্দেশনা দেয়া হবে। তিনি জানান, যে দিন যে এলাকায় পণ্য বিতরণ হবে সেদিনের চারদিন পূর্বে মাইকিং করে জনসাধারণকে জানিয়ে দেয়া হবে। কতজন হতদরিদ্র কোন স্পটে কি পরিমাণ পণ্য পাবেন সেটিও চারদিন আগে জানিয়ে দেয়া হবে। অসাধু লোকজন যাতে পণ্য ক্রয় করে মজুত করতে না পারে সেজন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের লোক সংখ্যা অনুযায়ী দরিদ্র মানুষের তালিকা করা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ড হবে মোট তিন প্রস্ত। একটি ডিলারের কাছে, একটি উপকারভোগির কাছে অপরটি থাকবে জেলা প্রশাসকের কাছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এ জন্য কমিটিতে পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া থাকছে।
জানা যায়, মূলত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিঞা এই কর্মসূচীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন। তার নির্দেশনা অনুযায়ী এই কর্মসূচীর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে কোন পণ্য কেজি প্রতি কত টাকায় মিলবে বা একটি পরিবার কি পরিমাণ পণ্য কার্ড প্রতি পাবে সেটি আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্ধারণ করে দেবে। তবে বাজার মূল্য তুলনায় কার্ড-মূল্য অনেক কম হবে সেরকমই দাবি করেছেন এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা।
