যুদ্ধ কি বেধেই গেলো 

আপডেট : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:০০

গত বছরের শেষের দিকে মার্কিন গণমাধ্যমগুলোয় খবর প্রকাশিত হতে থাকে,  ইউক্রেন সীমান্তের কাছে লাখের বেশি সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এসব খবরে দাবি করা হয়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে দেশটি ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে। এরপর ইউক্রেন ইস্যুতে দিনের পর দিন উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এই সংকটের সমাধানে দফায় দফায় রাশিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক বৈঠক করেন পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধিরা। তবে কোনোটাই ফলপ্রসূ হয়নি। 

সর্বশেষ ইউক্রেন সংকট সমাধানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে এতেও কোনো সমস্যার বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। 

এরমধ্যে গত সোমবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পূর্ব ইউক্রেনের রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দুই অঞ্চল দোনেৎস্ক ও লুহানস্ককে ‘স্বাধীন প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন ভ্লাদিমির পুতিন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই দুই অঞ্চলে রুশ সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন পুতিন। ফলে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে ওঠে।

এর কড়া প্রতিবাদ জানায় পশ্চিমা বিশ্ব। রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন জো বাইডেন। এর পর রাশিয়ার পাঁচটি ব্যাংক ও তিন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে যুক্তরাজ্য।

 

এছাড়া ২৩ ফেব্রুয়ারি বুধবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আট শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ রাশিয়ার স্বীকৃত রাষ্ট্র লুহানস্ক এবং দানেস্কে সব ধরনের অর্থায়ন নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি রাশিয়ার পার্লামেন্ট সদস্যদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে কানাডা। 

এদিকে বুধবার অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার পুরোমাত্রার হামলা সম্ভবত আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হতে পারে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরু হয়ে গেছে।

এর মধ্যে বুধবার ইউক্রেন জানিয়েছে, তারা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করবে। প্রাথমিকভাবে পুরো ইউক্রেনজুড়ে ৩০ দিন স্থায়ী থাকবে জরুরি অবস্থা। একই সঙ্গে দেশটি তাদের জনগণকে আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অনুমতি দিয়েছে। 

অন্যদিকে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার স্বার্থ ও নিরাপত্তা আলোচনাযোগ্য নয়। যেসব নিরাপত্তার নিশ্চয়তা তিনি পশ্চিমা বিশ্বের কাছে অনেক আগে থেকে দাবি করে আসছেন। তথ্যসূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, আল জাজিরা।

ইত্তেফাক/এসআর