রাজশাহীর বাঘায় কোনো ইস্যু ছাড়াই গোপন বৈঠক শেষে মিছিল করেছে জামাত-শিবির। খবর পেয়ে পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে তাদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ককটেল বিস্ফোরণ করে তারা। এ ঘটনায় পাঁচজন পুলিশ আহত হন। ঘটনাস্থল থেকে ৭ জন জামাত কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাঘা মাজার গেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এরপর বিষয়টি জানতে পেরে জামাত-শিবিরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলসহ পথসভা করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বাঘা মাজার এলাকায় কোনো ইস্যু ছাড়া প্রায় ৫০-৬০ জন জামাত-শিবির নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছিলো। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে উপস্থিত হলে তারা মিছিল বের করে বাঘা বাজারের দিকে আসতে থাকে। এ সময় পুলিশ মিছিলে বাধা দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাটকেল ও ককটেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় বাঘা থানা পুলিশের উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শক (এ.এস.আই) আব্দুর রহিম, (এ.এস.আই) মন্টু মিয়া এবং কনস্টেবল আব্দুল আহাদ, হারুনুর রশিদ ও প্রদীপ-সহ পাঁচজন আহত হন।
বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন জানান, নাশকতার উদ্দেশ্যে বাঘা মাজার এলাকায় জামাত-শিবির গোপন বৈঠক করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গেলে তারা মিছিল বের করে। এ সময় তারা পুলিশের ওপর হামলা চালানোসহ ইট-পাটকেল ও একটি ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ ৭ জন জামাত-কর্মীকে আটক করে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
আটকরা হলেন, উপজেলার আড়পাড়া গ্রামের রাজিব (৩০), হাবাসপুর গ্রামের শফিকুল (২৫), খায়ের হাট গ্রামের হাফিজুল (৪১), ঢাকা চন্দ্রগাথি গ্রামের সেকেন্দার আলী (৫৫), জোতরাঘর গ্রামের খোশবুর রহমান (২৫), জোতনশী গ্রামের আব্দুল মান্নাফ (৩০) ও চন্ডিপুর গ্রামের নাসির উদ্দিন (৪৯)। পরে আহত পুলিশরা স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
এদিকে খবর পেয়ে বাঘা উপজেলা আওয়ামী লীগ সঙ্গে সঙ্গে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করে এবং উপজেলা মুজিব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এই মিছিলটি দলীয় কার্যালয় থেকে বাঘা বাজার হয়ে উপজেলার পুরাতন বাস টার্মিনাল সংলগ্ন মুজিব চত্বরে মিলিত হয়। সেখানে জামাত-শিবিরের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে প্রতিবাদ মূলক বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বাবুল।
