ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল পেপিনোমেলন চাষ, সফল চাষি

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৪:৩০

আমেরিকান ফল পেপিনোমেলন চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের বড়খানপুর গ্রামের সবজিচাষি তাইজুল ইসলাম (৬৫)। অত্যধিক পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই ফল চাষের জন্য ইউটিউবই ছিলো তার এক মাত্র ভরসা।

তাইজুল ইসলাম জানান, পার্শ্ববর্তী গ্রামের প্রবাসী সেলিম রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে চারা নিয়ে এসে কয়েক শতক জমিতে চাষ করেন। সেখানে এই ফল দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সেলিমের কাছ থেকে চারা ক্রয় করে ৩৩ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন। সেলিমও এই চাষে অনভিজ্ঞ। তাই ইউটিউবে চাষপদ্ধতি দেখে পরিচর্চা শুরু করেন। চারা রোপণের ২ মাসের মধ্যে প্রতিটি গাছে ফল-ফুল ফলে ভরে যায়। তিনি জানান, বর্তমানে তার ক্ষেতে প্রায় ৫০ মন পেপিনোমেলান রয়েছে। নতুন জাতের ফলচাষে সফল হয়ে চাষি তাইজুল ইসলাম খুবই খুশি।

তাইজুল ইসলাম বলেন, ‘এই অঞ্চলে এ ফল নতুন চাষ হয়েছে। যে কারণে মানুষের কাছে অপরিচিত। বিভিন্ন এলাকা খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পেরেছি প্রতি কেজি পেপিনো ফলের মূল্য ৫’শ থেকে ৬’শ টাকা।’ 

চাষি তাইজুল ইসলাম এলাকায় প্রচারের জন্য আরও কম দামে বিক্রি করবেন বলে জানান। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখে এই ফল ক্রয়ের জন্য অনেক ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি। 

তিনি বলেন, ‘প্রচার হলে চারা বিক্রি করে বাড়তি আয় হবে। ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এই ফলের চারা রোপণ করতে হয়। একবার রোপণ করে দুই থেকে তিন বছর ফল পাওয়া যাবে এবং প্রতি বিঘা (৩৩ শতাংশ) জমিতে খুব কম খরচে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।’ 

তাইজুল ইসলামের ছেলে আনিছুর রহমান বলেন, ‘পেপিনোচাষে কোনও রাসায়নিক প্রয়োগ করতে হয়নি। পেপিনো চাষে রাসায়নিক সারের চাহিদা নেই বললেই চলে। জমিতে খুব কম পরিমানে জৈব সার ব্যবহার করেছেন। তাতেই তরতাজা সজিব গাছে ফুল ও ফলে ভরে গেছে।’ 

চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমরেন বিশ্বাস জানান, পেপিনোমেলন খেতে অনেকটা তরমুজের মত। তবে খাদ্যগুণ অত্যধিক। পেপিনোমেলন পুষ্টি ও ঔষুধিগুণাগুন সমৃদ্ধ একটি ফল। যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এ ছাড়াও এতে রয়েছে পটাশিয়াম। সোডিয়াম কম থাকে। পেপিনোমেলন প্রধানত হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এমনকি স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ভিটামিন সি, ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেড