ফকিরহাটের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদের গর্ভে ওয়াসার পাইপলাইনের জন্য নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া পলি জমে নাব্য হ্রাস পাওয়ায় পুনরায় ভরাট হচ্ছে নদী। অপরিকল্পিতভাবে নদীর ভেতর পাইপ স্থাপন করায় প্রায় ৫০ সহস্রাধিক মানুষ জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। নদীপাড়ের এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যায় মৎস্য ঘের, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট।
সরেজমিনে পরিদর্শনকালে স্থানীয়রা জানান, ফকিরহাট, মোল্লাহাট ও বাগেরহাট সদর উপজেলার বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে এবং নৌপথে চলাচল সুগম করার জন্য ভৈরব নদ নতুন করে খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে তা কোনো কাজে আসেনি। মোল্লাহাটের মধুমতী নদী থেকে খুলনা শহরে বিশুদ্ধ পানি নেওয়ার জন্য ফকিরহাটের বিশ্বরোড সংলগ্ন ব্রিজের নিচে ভৈরব নদের ভেতর অপরিকল্পিতভাবে একটি মোটা পানির পাইপ স্থাপন করে ওয়াসা। নদীগর্ভে পানির পাইপ স্থাপনকালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বাধা দিলেও তা মানা হয়নি। দেখা গেছে, মোটা পাইপ থাকায় এখন নদীতে জোয়ারভাটায় পলি জমে নাব্য হ্রাস পেয়েছে। বন্ধ রয়েছে নৌচলাচল। গত বর্ষা মৌসুমে নদী দিয়ে পানি যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ফকিরহাট ও পার্শ্ববর্তী উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি জমে ধ্বংস হয়েছে কয়েকটি পাকা রাস্তা। বিষয়টি ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে লিখিত ও মৌখিকভাবে গত এক বছর ধরে নদী খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারসহ একাধিক ব্যক্তি অবহিত করেছেন। তবে কোনো সুরাহা মেলেনি।
খুলনা বিভাগের ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ বলেন, ঐ সহানে মেরামতের জন্য যেসব উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি প্রয়োজন তা চীন থেকে আসবে। তারপরই পাইপলাইনটি ঠিক করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করা হবে। ফকিরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান স্বপন দাশ বলেন, ফকিরহাটসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি ভৈরব নদ পুনঃখনন। এটি বাস্তবায়িত হলেও গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত ওয়াসার একটি পাইপ, যা দ্রুত অপসারণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
