বেড়া বাজারের সোনাপট্টির সামনের ইট বিছানো রাস্তায় দেখা গেল, রাস্তার ময়লা আবর্জনা গভীর মনোযোগে সংগ্রহ করে বড় একটি পাত্রে রাখছেন এক ব্যক্তি। কথা বলে জানা গেল তিনি স্বর্ণ খুঁজতে রাস্তার ময়লা আবর্জনা ও মাটি সংগ্রহ করছিলেন। তার নাম কামাল শেখ।
কামাল শেখের বাড়ি রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট এলাকায়। দুই দশক ধরে বিভিন্ন জেলার সোনাপট্টি ঘুরে ঘুরে আবর্জনার স্তূপে স্বর্ণ খুঁজে বেড়ানোই তার পেশা। বিচিত্র এ পেশায় নিজেকে যুক্ত করে স্বর্ণ খোঁজার জন্য পাবনা, সিরাজগঞ্জ, কুড়িগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় ঘুরে বেড়ান তিনি। এভাবে রাস্তার ময়লা খুটে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যতিক্রমী পেশার এ মানুষ। তবে শুধু কামাল শেখই নন, তার মতো আরো পাঁচ থেকে ছয় জন বেড়া উপজেলায় এসে এভাবে ময়লা আবর্জনা ঘেঁটে স্বর্ণ বের করেন। তারা সবাই দরিদ্র। ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করার পর তা ধুয়ে সামান্য যে স্বর্ণ পান তা বিক্রি করে কোনোরকমে চলে তাদের সংসার।
বেড়া বাজারের স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীরা জানান, স্বর্ণের দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে দুই ধরনের ময়লা সংগ্রহকারী রয়েছেন। তার মধ্যে মূল ময়লা সংগ্রহকারীরা প্রতিটি স্বর্ণালংকারের দোকানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। তাদের আর্থিক অবস্থাও বেশ ভালো। দোকানগুলোতে কাজের পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বছরে ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকায় তারা স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। এসব ময়লা সংগ্রহকারীরা দোকানের যাবতীয় ময়লা, অ্যাসিড পানি, ছাই প্রভৃতি সংগ্রহ করেন। এগুলো থেকে তাদের ভালোই আয় হয়। কিন্তু তারা রাস্তার ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করেন না।
তবে কামাল শেখের মতো দরিদ্র ময়লা সংগ্রহকারীরা বিনা পয়সায় রাস্তার এমনকি নর্দমার ময়লা সংগ্রহ করেন। তবে সেই রাস্তা বা নর্দমার সঙ্গে অবশ্যই স্বর্ণালংকার তৈরির কারিগরদের সম্পর্ক থাকতে হবে। এসব কারিগর দোকান থেকে বের হয়ে যে রাস্তা দিয়ে বেশি চলাচল করেন বা তাদের চলাচলের পথে যেসব নর্দমা রয়েছে সেগুলোর ময়লা আবর্জনাই সাধারণত সংগ্রহ করা হয়। কারণ স্বর্ণালংকার তৈরির সময় স্বর্ণের টুকরো বা গুঁড়ো কারিগরদের পোশাকে বা গায়ে অনেক সময় লেগে থাকে। আর লেগে থাকা এসব স্বর্ণের টুকরো বা গুড়োঁই চলাচলের রাস্তায় পড়ে যায়।
কামাল শেখ জানান, ২০ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এ পেশায় যুক্ত। আগে এমনও দিন গেছে, এই ময়লা থেকে স্বর্ণ সংগ্রহ করে ৪-৫ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। কিন্তু দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন দুই থেকে তিন দিন ধরে ময়লা সংগ্রহের পর তা ধুয়ে হাজার দেড়েক টাকার বেশি আয় হয় না।
বেড়া বাজার স্বর্ণালংকার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গৌর চন্দ্র কর্মকার বলেন, রাস্তা থেকে ময়লা আবর্জনা সংগ্রহকারীদের লাভের বিষয়টি একেবারেই অনিশ্চিত। তাদের কাজটি অত্যন্ত পরিশ্রমের ও ভাগ্যনির্ভর।
