দর্শনা থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শামসুদ্দোহাকে গ্রেফতার করেছে যশোর কোতোয়ালি থানা পুলিশ। স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাজাবাজার এলাকা থেকে যশোর কতোয়ালি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করা হয়। দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার শামসুদ্দোহার কর্মস্থল ছিলো দর্শনা থানায়। স্ত্রী তুলি মামলা দায়েরের পর থেকে পালাতক ছিলেন শামসুদ্দোহা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক মধ্যস্থতায় ২০১৫ সালের ৭ আগস্ট ফারজানা খন্দকার তুলি ও শামসুদ্দোহার বিয়ে হয়। তুলি জানান, মাদক ও পরনারীতে আসক্ত শামসুদ্দোহা যৌতুকের দাবিতে তার ওপর শুরু করেন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। অসুস্থ বাবা-মায়ের চিকিৎসার কথা বলে তিনি ৪০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কয়েক দফায় ১৫ লাখ টাকা দেয়ার পরও তার আচরণে কোনো পরিবর্তন না আসায় স্বামীর অপকর্মের বিষয়ে মুখ খোলেন তুলি। এ অবস্থায় তিনি গর্ভবতী হন। ২০২০ সালে তুলির কোল আলো করে জন্ম নেয় ফুটফুটে পুত্র সন্তান। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ফরিদপুরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তুলির কাছে ফের ১৫ লাখ টাকা যৌতুক চান শামসুদ্দোহা। টাকা দিতে অস্বীকার করায় ১৩ ডিসেম্বর তুলিকে পিটিয়ে আহত করে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যান শামসুদ্দোহা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় গত ৯ ফেব্রুয়ারি তুলি বাদী হয়ে শামসুদ্দোহাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। তুলির বাবা খন্দকার ফারুক আহমেদ জানান, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। এরপরও তাকে গ্রেফতার কিংবা চাকরি থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। পুলিশের ক্ষমতা দেখিয়ে সে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছিলো।
দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফুল কবীর জানান, তার স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় ঢাকা ডিবি পুলিশের সহোযোগিতায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সহকারি পুলিশ সুপার দামুড়হুদা সার্কেল মুন্না বিশ্বাষ জানান তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
