খুলনা বিভাগের ১০টি বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউট বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ড ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টানাপড়েনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দুই সংস্থার টানাপড়েনে শিক্ষার্থীরাও পড়েছেন চরম সংকটে। এদিকে আর্থিক সংকট, পারিবারিক বাধা ও বিবাহজনিত কারণে প্রতি বছর বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটের ২৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছেন। যার ২০ শতাংশই ছাত্রী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কারিগরি বোর্ডের অধীনে খুলনা বিভাগে ৯টি নার্সিং ইন্সটিটিউট রয়েছে। এই নার্সিং ইন্সটিটিউটের মধ্যে খুলনায় রয়েছে :সিটি মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট, খুলনা মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট, শিরিনা হামিদ ইন্সটিটিউট অব নার্সিং, সুন্দরবন মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট, আমদা ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল টেকনোলজি, কম্পিউটার টোনোগ্রাফি (সিটি) ইমেজিং মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট ইত্যাদি। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনায় রয়েছে :গাজী মিজানুর রহমান (জিএমআর) নার্সিং ইন্সটিটিউট, এশিয়ান নার্সিং কলেজ, মমতা নার্সিং কলেজ ও রূপসা নার্সিং কলেজ। সম্প্রতি জিএমআর নার্সিং ইন্সটিটিউট ও সিটি ইমেজিং মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটে গিয়ে দেখা যায়, করোনার কারণে গত ২১ জানুয়ারি থেকে ইন্সটিটিউট দুটির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তবে অফিস রুম ছিল খোলা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি ইমেজিং মেডিক্যাল ইন্সটিটিউট কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত। ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানে চার বছর মেয়াদি ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল টেকনোলজি’ শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে।
সূত্র জানায়, ২০২০ সাল পর্যন্ত বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষা কার্যক্রম ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু এরপর সরকার পরিপত্র জারি করে বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিটিউটগুলোকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে অন্তর্ভুক্ত করে। তবে নানা অজুহাতে বেসরকারি নার্সিং ইনস্টিউটগুলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না। ফলে ২০২০-২১ সাল থেকে খুলনা বিভাগের ১০টিসহ দেশের বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটের ভর্তি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এছাড়া যেসব শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে চার বছর মেয়াদি পেশেন্ট কেয়ার টেকনোলজি কোর্স ডিপ্লোমা ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন সরকারি চাকরির জন্য তাদের অতিরিক্ত কম্প্রিহেনসিভ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে। উক্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে তাদের সরকারি চাকরি হচ্ছে না। অপরদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত বেসরকারি নার্সিং ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থীদের সরকারি চাকরির জন্য কম্প্রিহেনসিভ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয় না। ফলে একই শিক্ষা লাভ করেও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের শিক্ষার্থীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।
সিটি ইমেজিং মেডিক্যাল ইন্সটিটিউটের সুপারিন্টেনডেন্ট এ এম এ আরিফ খান জানান, তাদের স্বাস্থ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৪০ জন করে তিন ব্যাচে ১২০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ২০২১-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। ফলে ১৮ জন শিক্ষক, তিন জন ল্যাব ইনস্ট্রাক্টরসহ কর্মচারীদের বেতন দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিলসহ আনুষঙ্গিক ব্যয় বহনও কঠিন হয়ে পড়েছে।
