ঠাকুরগাঁওয়ে হস্তান্তরের আগেই মডেল মসজিদে ফাটল

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৪:১৭

দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় এগিয়ে চলছে একটি করে মডেল মসজিদ নির্মাণের কাজ। তারই অংশ হিসেবে জেলার হরিপুর উপজেলায় নির্মাণ করা হচ্ছে মডেল মসজিদ। তবে মসজিদটি কমিটির কাছে হস্তান্তরের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে দেওয়ালের মধ্যে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। কর্তৃপক্ষ বলছেন দ্রুত এগুলো সমাধান করে হস্তান্তর করা হবে মসজিদটি।

যানা যায়, ২০১৯ সালের আগস্টের দিকে হরিপুর উপজেলায় প্রায় ৪৩ শতক জমিতে কাজ শুরু করা হয় এই মডেল মসজিদটির। তিনতলা বিশিষ্ট এই মসজিদের বিভিন্ন দেওয়ালে ফাটলের ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ বলছেন এটা তেমন কোনো বিষয় নয়। প্রায় ১২ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে মসজিদটি আগামী দুই এক মাসের মধ্যে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে কমিটির কাছে। যদিও এখনো এই মসজিদে নামাজ পড়া শুরু হয়নি। এরপরেও মুসল্লিরা রয়েছেন আতঙ্কে। অনেকে বলছেন কাজের মান খারাপের কারণেই এমনটি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘উদ্বোধন হওয়ার আট মাসের মধ্যে মডেল মসজিদটিতে ফাটল ধরার কারণে আমরা আতঙ্কে আছি। কারণ যে কোনো মুহূর্তে মসজিদটি ভেঙে পড়তে পারে। আর এর ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।’ সফিকুল ইসলাম নামে আরেকজন বলেন, ‘মসজিদের কাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার করা হলো কি না বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি।’ 

হরিপুরের মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের পেশ ইমাম মুফতি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ফাটলের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা নেওয়া দরকার।’ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের খায়রুল কবির রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।  ঠাকুরগাঁও গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (সিভিল) এম কে এম নুরুল হাসান বলেন, ‘সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখেছি মসজিদের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এই ভবনটির দায়িত্বে যেহেতু আমরা আছি অবশ্যই বিষয়টি আমরা দেখব। সুন্দরভাবে মসজিদটির কাজ সম্পন্ন করে হস্তান্তর করা হবে।’ 

হরিপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল করিম বলেন, ‘মসজিদটি এখনো হস্তান্তর করা হয়নি, সেক্ষেত্রে গণপূর্ত বিভাগ তাদের ছোটখাটো ত্রুটিগুলো মেরামত করে আমাদেরকে ভবনটি হস্তান্তর করবে।’

ইত্তেফাক/ ইআ