পুঠিয়ার শ্রমিক নেতা নুরুল হত্যা মামলা

এত বড় দুঃসাহস কিভাবে দেখালেন: হাইকোর্ট

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ২০:৪৩

রাজশাহীর পুঠিয়ার শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ে আবারো অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। মামলার মূল এজাহার আমলে না নিয়ে তদন্ত সম্পন্ন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের মো. শামীম আক্তার। বাদীর মূল এজাহারকে বাদ দিয়ে স্পর্শকাতর এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে সেই বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে হাইকোর্ট বলেছেন, উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিলো, কিভাবে এই মামলার তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সেই রায়কে লঙ্ঘন করে বাদীর এজাহারকে আমলে না নিয়ে সৃজনকৃত এজাহারের ভিত্তিতে আপনি তদন্ত সম্পন্ন করেছেন। কিভাবে এত বড় দুঃসাহস দেখালেন? বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. সেলিমের দ্বৈত বেঞ্চ রবিবার এই মন্তব্য করেন। 

এর আগে হাইকোর্টের তলব আদেশে হাজিরা দেন তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আক্তার। তার পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান আদালতে বলেন, এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়েছে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনি তো হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছেন। আমাকে (তদন্ত কর্মকর্তা) আরেকবার সুযোগ দিলে অধিকতর তদন্ত করব। আদালত বলেন, আপনি যেভাবে তদন্ত করেছেন তাতে আসামিদের সাহায্য করে মামলার বাদীকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। যেখানে হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে সেটাকে লঙ্ঘন করে আপনি মনগড়া তদন্ত করেছেন। কেন এতবড় দুঃসাহস দেখিয়েছেন? 

পুঠিয়ার সড়ক ও পরিবহন মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন নুরুল ইসলাম। নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বীরা ২০১৯ সালের ১০ জুন তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নিগার সুলতানা আটজনের নাম উল্লেখ করে পুঠিয়া থানায় এজাহার দাখিল করেন। কিন্তু সেই এজাহারটি লিপিবদ্ধ না করে ওই থানার তৎকালীন ওসি সাকিল উদ্দিন আহমেদ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সাদা কাগজে বাদীর সই রেখে নিজেরাই একটা এজাহার সৃজন করে তা থানায় লিপিবদ্ধ করেন। যা পরবর্তীকালে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত বিচারিক অনুসন্ধান কমিটির তদন্তে বেরিয়ে আসে। একইসঙ্গে ২০১৯ সালের পহেলা ডিসেম্বর হাইকোর্ট মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন্সকে (পিবিআই) নির্দেশ দেয়। 

রায়ে হাইকোর্ট বলে, আদালত প্রত্যাশা করে যে, পি বি আই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার মামলাটি তদন্ত তদারকিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা/সংস্থাকে অবিলম্বে কেস ডকেট পি বি আই এর নিকট হস্তান্তর করার নির্দেশ দেয়া হলো। পি বি আই-কে তদন্ত কালে সংবাদদাতার মূল এজাহারের বর্ণনা, রাজশাহীর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক অনুসন্ধান রিপোর্ট ও উক্ত অনুসন্ধান কার্যক্রমে সাক্ষীদের সাক্ষ্য বিবেচনায় গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। কিন্তু হাইকোর্টের এই নির্দেশনা না মেনেই তদন্ত সম্পন্ন করেন তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের শামীম আক্তার।

এই মামলার আসামি আবুল কালাম ওরফে আবু জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন। ওই জামিন আবেদনের শুনানিকালে হাইকোর্ট নির্দেশনা না মেনে তদন্ত করার বিষয়টি দেখতে পান। এরপরই তদন্ত কর্মকর্তাকে তলবের পাশাপাশি এ বিষয়ে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তার উদ্দেশ্যে আদালত বলেছিলো, এই দেশ ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। আপনারা (তদন্ত কর্মকর্তা) যা ইচ্ছে তাই করবেন সেটা মেনে নেওয়া যায় না। এ সময় আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবু ইয়াহিয়া দুলাল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মিজানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি