‘ডট বল’ যখন চিন্তার কারণ 

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৫৭

ঘরের মাঠে প্রত্যাশিতভাবেই এক ম্যাচ বাকি থাকতে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জিতে গেছে বাংলাদেশ দল। টানা দুই ম্যাচ জিতলেও সিরিজে আলোচনার খোরাক জুগিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ডট বল খেলার প্রবণতা।

রান তোলার গতি ঠিক থাকলেও ডট বল খেলার মিছিল অব্যাহত ছিল দুই ম্যাচেই। ডট বল খেলার পরিমাণ কমাতে পারলে তথা স্ট্রাইক আরো রোটেট করা সম্ভব হবে। তাহলেই আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটের বড় স্কোরের লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারবে বাংলাদেশ। কারণ একদিবসি ক্রিকেটে এখন হরহামেশাই ৩৫০ স্কোর হয়। সেই লক্ষ্য অর্জনে কিছুটা পিছিয়ে বাংলাদেশ দল।

চট্টগ্রামে আফগানদের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ২১৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৭ বল আগেই জয় তুলে নিয়েছিল টাইগাররা। ইনিংসে ২৯৩ বল খেলেছিল বাংলাদেশ, যার মধ্যে ১৭৭টি বল ডট খেলেছেন ব্যাটসম্যানরা।

দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৩০০ বলই খেলেছিল বাংলাদেশ দল। যার মধ্যে ইনিংসের প্রায় অর্ধেক বলই ডট ছিল। পুরো ইনিংসে ১৪৬ বল ডট খেলেছেন মুশফিক-লিটনরা। বাকি ১৫৪ বলে উঠেছে ৩০৬ রান।

গতকাল চট্টগ্রামে অনুশীলনের পর সংবাদ সম্মেলনেও উঠে আসে ডট বলের প্রসঙ্গ। মেহেদী হাসান মিরাজ বলছেন, ডট বলও নাকি গেম প্ল্যানিংয়ের অংশ! তিনি বলেন, ‘ওয়ানডে ক্রিকেটে ডট বল হবে, কিন্তু উইকেটটাও গুরুত্বপূর্ণ। জুটি গড়তে হলে কিছু সময় একই স্টাইলে খেললে কঠিন হয় উইকেট পড়ে যায়। অনেক সময় একটু স্লো হতে হবে অনেক সময় অ্যাটাকিং মুডে খেলতে হবে, এটা আসলে গেম প্লানিংয়েই থাকে।’

ডট বল খেলাকে বাজে মনে করেন না মিরাজ। যদিও ক্রমাগত ডট বল খেললে, তা ব্যাটসম্যানের উপরই চাপ বাড়ায়, সেটা সবারই জানা। রান না বের করতে পেরে অনেক সময় ধৈর্য হারিয়ে ব্যাটসম্যান আউটও হন।

মিরাজ আরো বলেন, ‘আমরা যদি একই ধাঁচে খেলি মানে রানের জন্য খেলি তখন কিন্তু উইকেট পড়ার সুযোগ থাকে। তো মাঝে মধ্যে ডট হওয়া খারাপ কিছু না। এটা একটা জুটি তৈরি করে। জুটি হলে তো পরের ব্যাটাররা আরো আত্মবিশ্বাস নিয়ে ব্যাট করতে পারি।’

ভারতের মাটিতে আগামী বছরই অনুষ্ঠিত হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সবসময় ভালো উইকেট থাকে। রানের লড়াই হয়, বড় স্কোর হয়। যেখানে ভালো করতে হলে তেমন লক্ষ্য ধরে প্রস্ত্ততিও প্রয়োজন টাইগারদের।

বিষয়টি স্বীকার করে মিরাজ গতকাল বলেছেন, ‘ওয়ানডেতে রান হলে ব্যাটসম্যানরা আত্মবিশ্বাস পায়। যদি বড় ইভেন্টে খেলতে যান যেমন এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ। যেহেতু আমাদের সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে ভারতে। ওখানে কিন্তু ৩০০ রান করতেই হবে, ৩০০ রান চেজ করতে হবে এবং ৩০০ প্লাস রান করতে হবে। যেহেতু ভালো উইকেট থাকে। এখানে তো ভালো উইকেট আছে যদি আমরা এখন থেকে ভালো উইকেটে মানিয়ে নিতে পারি, তবে বিশ্বকাপ বলেন বা বড় ইভেন্টের জন্য ভালো হবে।’

ইত্তেফাক/টিআর