গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর পর থেকে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রুশ বাহিনী। আজ সোমবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত পঞ্চম দিনে পা ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা।
ইতিহাস থেকে দেখা গেছে যুদ্ধ শুরু করা যত সহজ শেষ করা ততটা সহজ নয়। ঠিক এমনটাই ঘটেছিল ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আক্রমণ এবং ২০০৩-এ ইরাকে আক্রমণের ক্ষেত্রে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউক্রেনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অভিযানের পরিণতিও একই হতে পারে।
পুরনো একটা কথা চালু আছে, শত্রুর সঙ্গে প্রথম মুখোমুখি সংঘাতের পর সামরিক পরিকল্পনা কখনই পরিকল্পনা মাফিক এগোয় না। ইউক্রেনেও রাশিয়ার বাহিনীর ক্ষেত্রে সেটা সত্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।
রয়াল ইউনাইটেড সার্ভিসের ইন্সটিটিউট (রুসি)-এর ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ এড আর্নল্ড রাশিয়ার প্রথম আক্রমণকে বর্ণনা করছেন 'ততটা চমকপ্রদ নয়' এবং 'প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির' বলে।
এর কয়েকটি কারণ তিনি ব্যাখ্যা করেছেন। সামরিক আক্রমণের নীতি হল, তিনি বলছেন, সাধারণত 'শুরুতেই বিশাল একটা ধাক্কা দেয়া।' রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্তে দেড় লাখ থেকে এক লাখ ৯০ হাজার সৈন্য সমাবেশ করলেও, এখন পর্যন্ত তাদের সবাইকে মাঠে নামায় নি।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ইউক্রেন সেনাবাহিনীর কার্যকর প্রতিরোধে হতাশ হয়ে যাচ্ছে রাশিয়ার বাহিনী।
ওই কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ান বাহিনী ক্রমেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনিয় বাহিনীর এই প্রতিরোধকে কার্যকর বলে মনে করছে।
এছাড়া সর্বশেষ পাওয়া খবর পর্যন্ত রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি শহর দখল করে নিয়েছে। সংঘর্ষে রুশ বাহিনী চার হাজারের বেশি সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। তবে রুশ বাহিনী এ নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
রাশিয়ার জন্য পরিবর্তিত পরিস্থিতি?
যুদ্ধের প্রারম্ভিক আক্রমণে কিছু সৈন্যকে বসিয়ে রাখার কারণ সম্ভবত রাশিয়া তাদের আক্রমণের পরবর্তী ধাপে ব্যবহারের জন্য এই সেনাদের প্রস্তুত রাখতে চায়। সামরিক বাহিনী যখন তাদের মূল পরিকল্পনা যুদ্ধের প্রয়োজনে বদল করে, তখন সৈন্যদের সংরক্ষিত রাখা একটা স্বাভাবিক বিষয় বলে বলছেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এড আর্নল্ড।
পশ্চিমা কর্মকর্তারা অনুমান করছেন, রাশিয়া সীমান্তে যে সৈন্যদের জড়ো করেছিল, তাদের প্রায় অর্ধেককে তারা আক্রমণের প্রথম পর্যায়ে ব্যবহার করেছে। বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণ চালানোর কারণে তাদের আক্রমণের প্রারম্ভিক পর্যায় কিছুটা জটিল ছিল।
এছাড়াও, রাশিয়া তাদের গোলাবর্ষণ এবং বিমান হামলা যতটা তীব্র মাত্রায় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল ততটা জোরেসোরে সেটা চালায় নি।
তবে আর্নল্ড বলছেন: 'একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তারা ইউক্রেনের দিক থেকে শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়েছে- যেটা আমার ধারণা রাশিয়া প্রত্যাশা করেনি।'
তবে এরপরও এড আর্নল্ড মনে করছেন, রাশিয়ার সমর-অধিনায়করা পরিবর্তিত পরিস্থিতি বা কোনরকম বিপর্যয়ের মোকাবিলা করতে খুব দ্রুতই তাদের পরিকল্পনা বদলে নেবে।
সাবেক ব্রিটিশ সেনা অধিনায়ক জেনারেল সার রিচার্ড ব্যারনস্ বলছেন, এখনও মনে হচ্ছে যে রাশিয়ানরা 'বেশ দ্রুতই তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে সফল হবে।'
