অস্ত্র হাতে যুদ্ধে নামলেন ‘মিস ইউক্রেন’: খবরটি সত্য নয়

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ২১:১২

'মিস ইউক্রেন' খেতাব পাওয়া সেরা সুন্দরী আনাসতাসিয়া লেনা নাকি হাই-হিল, রেড কার্পেট ছেড়ে অস্ত্র তুলে নিয়েছেন বলে ছবি ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা প্রকৃতপক্ষে পক্ষে সত্যি নয়।

রাশিয়ার আক্রমণের মুখে বিধ্বস্ত অবস্থা ইউক্রেনের। এ আক্রমণকে প্রতিহত করতে এখন প্রাণপণ লড়াই চালাচ্ছে ইউক্রেন, সেনার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের হাতেও অস্ত্র তুলে দিয়েছে দেশটির সরকার। সম্প্রতি বেশকিছু গণমাধ্যমে আনাসতাসিয়া লেনার ছবি প্রকাশ করে বলা হয়, ইউক্রেনের এই সুন্দরী যুদ্ধে যোগদান করেছেন। তবে এমন তথ্য মোটেও সত্যি নয়।

আনাসতাসিয়া লেনা। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

এর আগে ইউক্রেনীয় এই সুন্দরীর ছবিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ সম্পর্কিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, "সম্প্রতি ইউক্রেন আক্রমণের পর পুতিনবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নেটমাধ্যমে আহ্বান জানিয়েছেন লেনা। ভক্তদের কাছে তার আবেদন, ‘রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরব হোন।’ এ সময় রাশিয়ার সেনাবাহিনীকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আনাসতাসিয়া। ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে তার স্পষ্ট হুমকি ‘হানাদারির জন্য যারা ইউক্রেনের সীমান্ত পার করেছেন, সকলেই মারা পড়বেন!"

গণমাধ্যমগুলো তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জোলেনস্কির সমর্থনেও মুখ খুলেছেন এই প্রাক্তন মডেল তথা অভিনেতা। ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটছেন জেলেনস্কি— এমন একটি ছবিও দেখা গিয়েছে আনাসতাসিয়ার পোস্টে। এমনকি কিভের মেয়র ভিতালি ক্লিটস্চকোর আহ্বানে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছেন ২৪ বছরের আনাসতাসিয়া, এমন তথ্যও প্রচার করা হয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। তবে বাস্তবে তিনি যুদ্ধে যাননি।

আনাসতাসিয়া লেনার ইন্সটাগ্রাম প্রোফাইলের এই ছবিগুলো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের নয়।
বেশকিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাশাপাশি বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও প্রচার করা হয় আনাসতাসিয়া যুদ্ধে যোগ দিয়েছেন। এই খবরটির কোনো সত্যতা নেই। মিস ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়ার এসব খবর যাচাই করে বুম বাংলাদেশ বলছে, খবরটি বিভ্রান্তিকর। তার 'যুদ্ধে যোগ দেওয়ার' বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইন্সটাগ্রামে ভিডিও পোস্ট করে প্রাক্তন এই মিস ইউক্রেন নিজেই। সেখানে তিনি জানান, তিনি সামরিক বাহিনীর সদস্য নন।

আনাসতাসিয়া লেনা। ছবি: ইন্টারনেট

আনাসতাসিয়া লেনার ইন্সটাগ্রাম অ্যাকাউন্টে অস্ত্র হাতে একাধিক ছবি রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন গণমাধ্যম ব্যবহার করেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নিজ দেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসব ছবি তিনি প্রতীকী হিসেবে পোস্ট করেন। এগুলো বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রের ছবি নয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ