১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা ট্রাভেলস মালিক

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২২, ০৯:১২

বৈধ-অবৈধ পথে প্রবাসে পাড়ি জমিয়ে অনেকেরই যেমন ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেছে, তেমনি সিলেটের অনেক পরিবার সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ইদানীং আবার সাগরপথে পাড়ি দিতে গিয়ে নির্মমভাবে প্রাণও দিচ্ছেন। এবার সিলেটের ট্রাভেলস মালিকের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন প্রতারিতরা।

সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার হক সুপার মার্কেটের আমিন রহমান ট্রাভেলসের মালিকের প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে গত শনিবার। 

পরদিন কার্যালয়ে তালা দিয়ে পালায় প্রতারক চক্র। এর পর থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতারণার শিকার তরুণরা এসে ভিড় করে ঐ ট্রাভেলসে। কিন্তু অফিস বন্ধ দেখা যায়। এ ঘটনায় রবিবার কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় আমিনুর রহমানসহ অপর দুই ভাইকেও আসামি করা হয়েছে। বাদী ছাড়াও ১৮ জন প্রতারিত তরুণ-তরুণী মামলার সাক্ষী হয়েছেন। মামলার বাদী দক্ষিণ সুরমার বানেশ্বরপুরের ফখরুল ইসলাম তার এজাহারে, তাদের সর্বমোট ১ কোটি ১৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন। এছাড়া, শতাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে সর্বমোট প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

নব্বই দিনের মধ্যে রোমানিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় আমিন রহমান ট্রাভেলস। বিজ্ঞাপন দেখে বিদেশ যেতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন তরুণরা। ভুক্তভোগীরা জানান, প্রথমে বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ও ওয়ার্ক পারমিট আসার পর দিতে হবে আরো ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৫ লাখ দিতে হবে ভিসা হওয়ার পর—এমন কথা শুনে রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহীরা লিখিত চুক্তি করে টাকা দেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ৫০ হাজার ও ওয়ার্ক পারমিট আসার কথা বলে আরো ৫০ হাজার টাকা নেয় ঐ প্রতিষ্ঠানটি। পরে ভিসা হয়ে যাওয়ার কথা বলে পুরো টাকাও নেওয়া হয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি ফ্লাইট দেওয়ার কথা ছিল। অনেককে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গিয়েছিলেন ট্রাভেলস মালিক আমিনুর রহমান। এয়ারপোর্টে গিয়ে ফোন দিলে আমিনুর আর ফোন ধরেননি। পরে প্রতারণার বিষয়টি আঁচ করতে পারে ভুক্তভোগীরা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ আলী মাহমুদ জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ফখরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সর্বমোট ১৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের খুঁজছে।

ইত্তেফাক/এমআর