জালিয়াতি করে নলকূপ দখলের অভিযোগ, সেচের অভাবে ২০০ একর জমি অনাবাদি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২২, ১৫:১০

বেনাপোলের খড়িডাংগা গ্রামে নুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সমিতির স্বাক্ষর জাল জালিয়াতি করে ‘গভীর নলকূপ’ জোর দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে খড়িডাংগা মাঠে অর্ধশতাধিক কৃষক সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত দীর্ঘদিন। মাঠে ফসল উৎপাদন করতে পারছেন না তরা।

নুরুল ইসলাম গত ৭ মাস আগে মারা যাওয়ার পর তার ভাই ও ছেলেরা নলকূপটি তাদের দখলে নিয়ে নেয়। সমিতির ৯ সদস্যের মধ্যে প্রথমে পাঁচজনকে ও পরে অপর তিনজনকে মালিকানা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সমিতির বাকি আটজন সদস্য আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটি যশোর পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। 

১৯৮৪ সালে শার্শা উপজেলা বিএডিসির মাধ্যমে ৯ সদস্যের সমিতির নামে এই গভীর নলকূপটি শার্শার খড়িডাঙ্গা চাতরেল বিলে ২০০ একর জমিতে পানি সেচের জন্য স্থাপন করা হয়।

গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য জমিদাতা খড়িডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমান বলেন, ১৯৮৪ সালে বিএডিসির  মাধ্যমে সমিতি নামে গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। নলকূপের জন্য তিন শতাংশ জমি দান করি আমি। সমিতির সদস্য ছিলেন রিয়াজ উদ্দিন, রফিক উদ্দিন ও এবাদত আলী, আব্দুল আজিজ, নুরুল ইসলাম, আহাজ্জত আলী, অহেদ আলী, হাবিবুর রহমান ও শাহাদৎ হোসেন। গভীর নলকূপটি চালানোর জন্য রিয়াজউদ্দিনের নামে বিদ্যুতের মিটার নেয়া হয়। আর পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয় নুরুল ইসলামকে। দুই বছর সমিতির কোন হিসেব দেয়া হয়নি।

নুরুল ইসলাম এরই মধ্যে গোপনে নলকূপের সব কাগজপত্র নিজের নামে করে নেন। সর্বশেষ ২০২০ সালে রিয়াজ উদ্দিনের নামে থাকা বিদ্যুতের মিটারটিও নিজের নামে করে নেন তিনি। বর্তমানে এই গভীর নলকূপটির মালিকানা নিয়ে যশোর আদালতে মামলা চলমান। বছর তিনেক আগে প্রতারিতরা এই মামলাটি করেন।

নুরুল ইসলামের ভাই নুরুল হক জানান, সব কাগজপত্র আমাদের নামে। নলকূপের লোন পরিশোধ করতে না পারায় আমার ভাইকে জেলে যেতে হয়। পরে নিজেদের  জমি বিক্রি করে আমরা লোন পরিশোধ করেছি। বর্তমানে এ বিষয়টি আদালতে মামলা চলমান, মামলায় যে রায় হবে সেটি আমরা মেনে নিব।

বেনাপোল ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমান জানান, গভীর নলকূপটির মালিকানার বিষয়টি নিয়ে যখন সংকট সৃষ্টি হয়, তখন আমি উভয়কে নোটিশ করে ইউনিয়ন কার্যালয়ে নিয়ে আসি। প্রকৃতপক্ষে গভীর নলকূপটি দালিলিকভাবে মালিক নয়জন।

যশোর পিবিআই পুলিশ সুপার রেশমা খাতুন জানান, কাগজপত্র জালিয়াতি হয়েছে কি না তা তদন্ত করার জন্য বিঞ্জ আদালত আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা মামলাটি তদন্ত করছি, আশা করি দ্রুত তদন্ত প্রতি বেদন আদালতে জমা দিতে সক্ষম হবো। 

ইত্তেফাক/এমআর