দেশের লেখকদের বই প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্য এবং বিষয়ভিত্তিক বইয়ের প্রতিও আগ্রহ বাড়ছে বাঙালি পাঠকের। সহিত্যের পাশাপাশি অর্থনীতি, রাজনীতি, বিজ্ঞান, গণিত, ধর্ম ও দর্শনশাস্ত্রের বইও প্রকাশিত হচ্ছে মেলায়। বোঝা যাচ্ছে, পাঠক আছে বলেই তা প্রকাশিত হচ্ছে। এসব বইয়ের মধ্যে অনেক বই উঠে আসছে বেস্ট সেলের তালিকায়। অনুবাদ বই প্রকাশনা বাড়তে থাকায় তা প্রকাশনা জগতেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কিছু কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অনুবাদকেন্দ্রিক প্রকাশনা নিয়েই উপস্থিত থাকে বইমেলায়।
অ্যাডর্নের প্রকাশক সৈয়দ জাকির হোসাইন বললেন, অনুবাদ বইয়ের প্রতি পাঠকের আগ্রহ রয়েছে। যারা বিশ্বের সাহিত্য সম্পর্কে খোঁজ-খবর রাখেন, তাদের অনুবাদ বইয়ের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কুমার নাথ বলেন, ‘বিজ্ঞানের বইয়ের প্রতি খুদে পাঠকদের আগ্রহ রয়েছে। আমরা শিশুদের জন্য বিজ্ঞানবিষয়ক অনুবাদ গ্রন্থ আনি। পাঠকের চাহিদা রয়েছে।’ অবসর প্রকাশনীর ব্যবস্থাপক মাসুদ রানা বলেন, ‘অনুবাদ যদি লেখা ভালো হয়, তাহলে ভালো বিক্রি হয়। আমরা প্রতি বছর পৃথিবীর সেরা গল্পগুলোর মধ্য থেকে বেছে অনুবাদ গ্রন্থ প্রকাশ করি। পাঠকের ভালো সাড়া পাই।’
প্রকাশনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক অনুবাদ বই প্রকাশ পেলেও প্রয়োজন অনুযায়ী যথেষ্ট অনুবাদকর্ম হচ্ছে না। প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের অভাব এবং অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগে অনুবাদকেন্দ্র সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কবি মুহাম্মদ সামাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের সাহিত্যের আন্তর্জাতিক প্রচার-প্রসারের ক্ষেত্রে অনুবাদের কোনো বিকল্প নেই। যথার্থ অনুবাদের মাধ্যমেই আমাদের সমৃদ্ধ সাহিত্য ও চিন্তাভান্ডার বিশ্বদরবারে পৌঁছাতে পারে। তবে অনুবাদকর্মের ক্ষেত্রে আক্ষরিক অনুসরণের পরিবর্তে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক জ্ঞানের সংযোগ অনুবাদকের জন্য অপরিহার্য বিষয়। এ বিষয়ে আমাদের নবীন অনুবাদকদের আরো সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে।
বইমেলায় লেখক ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী
বইমেলা এখন সত্যি সত্যিই পাঠক-লেখকের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। পাঠকদের পাশাপাশি বইমেলায় ঘুরতে দেখা গেছে সরকারের মন্ত্রীদেরও। গতকাল মেলায় এসেছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। জ্ঞানকোষ প্রকাশনীর সামনে চেয়ারে বসে পাঠকদের বইয়ে স্বাক্ষর করেন, তোলেন ছবিও। বইমেলায় ছিলেন মোজাফ্ফর হোসেন, পিয়াস মজিদ। আগামী প্রকাশনীর সামনে সলিমুল্লাহ খানকে ঘিরে রেখেছিলেন তার ভক্ত পাঠককুল।
এদিকে, শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গতকাল এসেছিলেন বইমেলায়। বিভিন্ন স্টলে ঘুরে ঘুরে বই কিনতে দেখা গেছে তাকে। অপরদিকে, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ অন্যপ্রকাশ এর স্টলে সামস আহমেদের খণ্ডিত আকাশ ও লুত্ফুন্নাহার পিকির কষ্ণচূড়া ও রাধাচূড়ার গল্প’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দ্র মজুমদার, আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণি, অন্যপ্রকাশ এর প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম প্রমুখ।
মেলামঞ্চে অনুষ্ঠান
বইমেলার মূলমঞ্চে গতকাল অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: রশীদ হায়দার ও ফরহাদ খান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোজাফ্ফর হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ইমতিয়ার শামীম এবং মনি হায়দার। সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা সৈয়দ হক।
নতুন বই: গতকাল মেলার ১৬তম দিনে নতুন বই এসেছে ১১৪টি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য বই হচ্ছে—আগামী প্রকাশনী এনেছে অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ শিকদারের ‘মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্নপূরণে সুশাসন’, শিশু গ্রন্থকুটির এনেছে ঝর্ণা দাশ পুরকায়স্থের ‘ইভানের কাজলাদিদি’, বইঘর এনেছে আলী ইমামের ‘জিরো থেকে সুপার হিরো’, পুঁথিনিলয় এনেছে আবুল কাসেম ফজলুল হকের ‘বিশ্বায়ন ও সভ্যতার ভবিষ্যত’, ব্রি. জে. (অব) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনের ‘বাংলাদেশের ভূ-রাজনীতিও নির্বাচনের গুরুত্ব’ ও ‘বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ: রোহিঙ্গা’, অবসর এনেছে ফিওদর দস্তইয়েভস্কির উপন্যাস ‘অভাজন’, সুলতানা স্বাতী অনূদিত নিনা মরগানের ‘গুয়েলমো মার্কনি’, অন্যপ্রকাশ এনেছে আফিফা পারভীনের উপন্যাস ‘ফেরারি বসন্ত’, নিশো আল মামুনের ‘নীল চিঠি’, মুহাম্মদ আসিফ ইকবালের ‘জিজ্ঞাসায় ভালোবাসায়’ প্রভৃতি।
