বইমেলায় তারাও আছেন

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ০০:৩৬

বইমেলাতে তাদের অপ্রতিভ সলজ্জ কিন্তু প্রত্যাশামাখা চলা-ফেরা। তাদের কারো পরনে পায়জামা-পাঞ্জাবি, কারো শার্ট-প্যান্ট। কারো এই গরমেও কোট আছে গায়ে। বয়স সম্ভবত ৪৫ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে। কেউ এসেছেন জয়পুরহাট থেকে, কেউ রাঙ্গুনিয়া, কেউ মেহেরপুর থেকে। এই মেলাতে বই প্রকাশিত হয়েছে তাদেরও। কবিতা, গল্প তো আছেই, কেউ কেউ লিখেছেন নিজেদের এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের কথা, কেউ নিজ জেলার ইতিহাস।

বইমেলাতে এসেছেন তারা। কিন্তু যেন জানেন না কী করতে হবে। তারা একা একা ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছেন মেলায়। দেখছেন লাইভ, সাক্ষাত্কার দেওয়া চেনা-অচেনা লেখকদের। তারাও চান টিভিতে কথা বলতে। কিন্তু ঠিক জানেন না কীভাবে সেখানে কথা বলার সুযোগ পাওয়া যায়। কোনো এক ব্যক্তি বা সূত্রের মাধ্যমে প্রকাশককে টাকা দিয়ে বের করেছেন নিজের বই। মেলাতে পরিচিত বলতে সেই প্রকাশকই। এদিক-ওদিক পায়চারি করে একটু পরপর গিয়ে দাঁড়াচ্ছেন সেই স্টলের সামনেই।

ফেসবুক জেনারেশনের নবীনতম লেখক-লেখিকারও এরকম সমস্যা নেই। তারা দল বেঁধে আসছে মেলায়। মিলিত হচ্ছে কোনো স্টলের সামনে। একজন কিনছে আরেক জনের বই। অটোগ্রাফ দিচ্ছে এবং নিচ্ছে। গ্রুপ ধরে ছবি তুলছে। সেলফি তো আছেই।

লিটল ম্যাগাজিনের লেখকদেরও এমন সমস্যা নেই। ছোট হোক, বড় হোক, তাদের গ্রুপ আছে। একজনের সঙ্গে অপর জনের পরিচয় করে দেওয়ার মাধ্যম আছে।

পরিচিতি পাওয়া লেখক-কবিদের তো কথাই নেই। মেলায় তারা মহা ব্যস্ত। সাক্ষাত্কার দেওয়া, অটোগ্রাফ দেওয়া, ভক্ত পাঠকের সঙ্গে হাসিমুখে ফটো তোলা নিয়ে। নতুন কেউ কথা বলতে এলে সহাস্য গাম্ভীর্য এসে যাচ্ছে তাদের আচরণে। এসব করতে কষ্ট হয় না তাদের। অভ্যেস হয়ে গেছে।

মফস্সলের অচেনা সেই ৪৫-৭০ লেখক-কবিদের প্রত্যেকেই মনে-প্রাণে চাইছেন কেউ তার সঙ্গে কথা বলুক। নিজে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে দ্বিধা। যদি সাড়া না পাওয়া যায়!

স্কুল থেকে, চাকরি থেকে, ওকালতি থেকে এক দিন বা দুই দিনের ছুটির ব্যবস্হা করে ঢাকায় এসেছেন তারা কেবল বইমেলার জন্যই। তার বইটিকে কেউ স্পর্শ দেবে—এর চেয়ে বেশি প্রত্যাশা নেই তাদের।

এক দিন বা দুই দিন পরেই তারা বাড়ি ফিরে যান। পছন্দমতো দুই-চারটে বই কিনে। এবং প্রকাশকের কাছ থেকে নেওয়া নিজের বইয়ের ১০-২০টি কপি নিয়ে।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি