দেশে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম হার্ট প্রতিস্হাপন

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ০২:৪৭

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট বা যান্ত্রিকভাবে হূদপিণ্ড প্রতিস্হাপনের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে| মূলত এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে হূদরোগ চিকিত্সায় নতুন যুগের সূচনা হলো| এই সফল চিকিত্সা সম্পন্ন করেন ইউনাইটেড হসপিটালের প্রধান কার্ডিয়াক সার্জন ও কার্ডিয়াক সেন্টারের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবির|

বুধবার তিনি ইউনাইটেড হসপিটালে ৪২ বছর বয়সি এক নারীর হৃদপিণ্ডে মেকানিক্যাল হার্ট বা (লেফট ভেনট্রিকুলার অ্যাসিস্ট ডিভাইস (এলভিএডি) এলভ্যাড স্হাপন করেন| 

ঐ রোগী দীর্ঘদিন ধরে হৃদপিণ্ডের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন যেটি তীব্র হার্ট ফেইলিওরের দিকে যাচ্ছিল| দেশে-বিদেশে নানা চিকিত্সার পরও তার হূদপিণ্ড প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়ছিল|

চিকিত্সা বিজ্ঞানের বর্তমান উত্কর্ষতায় উন্নত বিশ্বের একমাত্র চিকিত্সা আরেকটি সুস্হ হার্ট দিয়ে প্রায় অকার্যকর হার্টটি প্রতিস্হাপন| তবে যদি সুস্হ হার্ট না পাওয়া যায়, বা হার্ট পেতে দেরি হচ্ছে কিংবা হার্টের অবস্হার যদি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে তখন মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট বা (এলভিএডি) এলভ্যাড স্হাপন করা হয়| এতে রোগীর হার্ট কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং সমস্ত শরীরের রক্ত চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে| ফলে শরীরে অন্যান্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার ইত্যাদি সেরে ওঠার সুযোগ পায়| তীব্র হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত কিছু রোগী হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের উপযুক্ত না হলে তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প ‘এলভ্যাড’, যা স্হাপনের মাধ্যমে বাকি জীবন তিনি সুস্হভাবে অতিবাহিত করতে পারেন|

ডা. জাহাঙ্গীর কবির ও তার দক্ষ সহকর্মীরা প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হার্টম্যাট-৩ নামের একটি মেকানিক্যাল হার্ট রোগীর হূদপিণ্ডের বাম নিলয়ে স্হাপন করে তার পুরো হূদপিণ্ডের কার্যকারিতা স্বাভাবিক অবস্হায় ফিরিয়ে আনেন| আশা করা যাচ্ছে এর মাধ্যমে রোগীর মৃতু্যঝুঁকি অনেক কমে আসবে| বাংলাদেশে হার্ট সার্জারির প্রথম সারির এ চিকিত্সক দল ইউনাইটেড হসপিটালের শুরু থেকেই ১৫ হাজারেরও বেশি মানুষের হার্টের সফল সার্জারি করেছেন|

উল্লেখ্য, কার্ডিওমায়োপ্যাথি, ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ ও হার্ট অ্যাটাক, কনজেনিটাল হার্ট ডিজিজ, হার্ট ভাল্ভজনিত সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদে হার্ট এর অস্বাভাবিক রিদম বা অ্যারেদমিয়া ইত্যাদি রোগের শেষ পরিণতি হচ্ছে ‘হার্ট ফেইলিওর’|

বর্তমানে সারা বিশ্বে ১০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এই জটিল রোগে আক্রান্ত| এশিয়ায় এ রোগের হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ|

ইত্তেফাক/জেডএইচডি