মঙ্গলবার, ০৯ আগস্ট ২০২২, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জাতির দায়মুক্তিতে আইনি লড়াই করে যাচ্ছেন যুথী

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২২, ০২:০১

জাতির দায়মুক্তিতে আইনি লড়াই করে যাচ্ছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। আলোচিত এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ‘জরুরি অবস্থা জারির বৈধতার বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা তিন আইনজীবীর একজন তিনি।

সম্প্রতি বহুল আলোচিত তিনটি ইস্যু নিয়ে আবারও আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ পাঠ নিয়ে মতভেদের অবসান ও এর সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তিকরণ, ১৫ আগস্ট অর্থাৎ ‘জাতীয় শোক দিবস’-এ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন নিয়ে মতভেদ ও তার সঠিক জন্মদিন বের করা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। এই তিন ইস্যু নিয়ে মামলার বিষয়ে কথা বলেছেন ইত্তেফাক অনলাইনের সঙ্গে। 

স্বাধীনতার ঘোষণা ও এর সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তিকরণ

স্বাধীনতার ঘোষণা, ঘোষণাপত্রসহ এর সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তিকরণ চেয়ে রিট আবেদন সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকে সঠিকভাবে জানেই না যে আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক কে বা এর সঠিক ইতিহাস কী? তারা বিভ্রান্ত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে ভাষণ দিলেন, তখনই কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণা চলে এসেছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দলীয়করণের মাধ্যমে এই ইতিহাস বিকৃত হয়েছে। ফলে এই প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে।

এই রিট মামলায় আমি চেয়েছি, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জানুক যে, স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছেন এবং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটিই মূলত স্বাধীনতার ঘোষণা। বিষয়টি কারিগরি বা মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাবোর্ডের পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে এই প্রজন্ম তা সহজেই জেনে নিতে পারবে। কারণ একটি মৌলিক বিষয়ের ওপর কোনো বিতর্ক থাকে না। আর এই মৌলিকতা রক্ষা আমাদের দায়িত্ব এবং সেটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু হতে পারে বলেই রিটটি দায়ের করা।

রিট আবেদনটি জাতির দায়মুক্তির চেষ্টা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই। আমার বিবেক থেকেই এ বিষয়টি এসেছে। একটা সময় ছিল যখন আমরা টিভিতে বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখতে পেতাম না। সে সময় জনমন থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার অবদান ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। আমরাই যদি বিভ্রান্তিতে পড়ি, তাহলে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জাতির পিতা, কিংবা তাঁর ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে কীভাবে জানবে? সে উপলব্ধি থেকেই ভাবলাম, বিভ্রান্ত বন্ধে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নইলে একটি সময় পর প্রজন্ম আর সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে না। তাই বিবেকের দায়মুক্তি থেকেই জনস্বার্থে আইনি লড়াই করে যাচ্ছি।

জাতীয় শোক দিবস ও বিএনপি চেয়ারপারসনের জন্মদিন পালন

১৫ আগস্ট অর্থাৎ জাতীয় শোক দিবসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন বিষয়ে নাহিদ সুলতানা যুথী বলেন, সাধারণত আমাদের জন্মনিবন্ধন, পাসপোর্ট, পাবলিক পরীক্ষার সার্টিফিকেট, বিয়ের কাবিন, জাতীয় পরিচয়পত্রে আমাদের জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়। তবে সবক্ষেত্রেই আমাদের জন্ম তারিখ একটি। কিন্তু বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দুই পাসপোর্টে জন্মদিনের দুটি তারিখ উল্লেখ রয়েছে। সেইসঙ্গে বিয়ের রেজিস্ট্রি সনদ, ম্যাট্রিকুলেশন সনদ এবং হাসপাতালের নথিতে ভিন্ন ভিন্ন জন্মদিনের তারিখ রয়েছে। এতগুলো জন্ম তারিখের বাইরেও ১৫ আগস্ট দলীয়ভাবে জন্মদিন পালন করা হয়। যদি সবগুলো নথিতে ১৫ আগস্টে জন্ম তারিখ উল্লেখ থাকতো, তাহলে সেটি অন্য বিষয় হতো। কিন্তু যেদিনটিতে জাতির পিতাকে সপরিবারে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়, যেটি আমাদের জাতীয় শোক দিবস, সেই তারিখে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রী জন্মদিন পালন করায় জাতির মধ্যে বিভেদ, বিভক্তি তৈরি হচ্ছে। তাই একটি সঠিক জন্মদিনের বিষয়টি আমি তুলে আনার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণার সঠিক ইতিহাস পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তিকরণের মতো এখানেও আমি জাতির দায়মুক্তির জায়গা থেকে কাজ করেছি। এ বিষয়ে যেন জনগণের মধ্যে আর বিভেদ সৃষ্টি না হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সুষ্ঠু ধারা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। একজন মহান নেতার মৃত্যুর দিনে বানানো জন্মদিন পালনের মাধ্যমে বাঙালিকে যেন খারাপ বার্তা না দেওয়া হয়, সে প্রচেষ্টা করেছি। আমরা চাই, যেটি সঠিক জন্ম তারিখ সেটি পালন হোক, শোক দিবসের অবমাননা এবং বাঙালির বিবেককে অবদমিত করা বন্ধ হোক।

জাতির পিতার ভাস্কর্য নিয়ে ষড়যন্ত্র-দ্বন্দ্ব

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুর ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা নিয়ে যখন একটা থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এমন সময় হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নাহিদ সুলতানা যুথী। রিট আবেদনের মূল উদ্দেশ্য কী এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটি মৌলবাদী গোষ্ঠী প্রচার চালালো, ইসলাম ধর্মমতে, ভাস্কর্য করা যাবে না। কিন্তু জাতির পিতার ভাস্কর্য তো একটি শিল্প। সংবিধান অনুসারে আমরা ধর্মনিরপেক্ষ জাতি। সুতরাং, ভাস্কর্য নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব থাকার কথা না। তবু ভাস্কর্য নির্মাণকে কেন্দ্র করে হানাহানি-মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিল অনেকে। সে বিষয়গুলো থেকেই রিটটি দায়ের করি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশের পরই ভাস্কর্য নিয়ে মারামারি-হানাহানি বন্ধ হয়ে গেল।

পেশাগত ব্যস্ততার মাঝেও পরিবাররের জন্য কিভাবে সময় বের করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ল’ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুলা) প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগে ২০০৮ সালে এক-এগারো সরকারের আমলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোষাধ্যক্ষ ছিলাম। পেশাগতভাবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে ব্যস্ততা তো আছেই। তবে আমি মনে করি, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সময় বের করা সহজ হয়। আমিও সেভাবে চেষ্টা করি। আর পরিবার সাপোর্ট করলে তা আরও সহজ হয়ে যায়। যেমনটা আমার ক্ষেত্রে ঘটে। এতো ব্যস্ততার মাঝেও আমি আমার স্বামী (যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ) ও মেয়ের (তানজিম বৃষ্টি) কাছ থেকে বেশি সাপোর্ট পাই।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সেক্রেটারি পদে কখনো কোনো নারী আসীন না হওয়ার বিষয়ে নাহিদ সুলতানা যুথী বলেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে এখন অসংখ্য নারী আইনজীবী (সদস্য) রয়েছেন। আমরা নারীরা আজীবন শুধু ভোট দিয়ে যাবো, তা কিন্তু নয়। নারীদের মধ্য থেকেও নেতৃত্বে এগিয়ে আসতে হবে। সমিতির অনেক পুরুষ সদস্যও চান যে, নারীরা সমিতির নেতৃত্বে আসুক।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

গ্রামীণ টেলিকমের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত: হাইকোর্ট

সামিয়া রহমানকে সুযোগ-সুবিধাসহ পদ ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ

ক্যাসিনোকাণ্ডের হোতা সেলিম প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ রাশিয়ান স্ত্রীর

টিপু-প্রীতি হত্যা: শুটারকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক মোল্লা শামীম আটক! 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

টিপু হত্যা: সোহেল-মারুফ দু’দিনের রিমান্ডে 

সহজের জরিমানা স্থগিত

চলন্ত বাসে যৌন হয়রানি: বিকাশ পরিবহনের চালক কারাগারে

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় খুলনার ৬ জনের রায় বৃহস্পতিবার