এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে বিমান থেকে বোমাবর্ষণ এবং ক্ষেপণাস্ত্র হানার পরে খারকিভসহ ইউক্রেনের একাধিক শহর দখলের জন্য মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমে পড়েছে রুশ বাহিনী। কিন্তু সেই অভিযানে কার্যত প্রতি ইঞ্চি জমি দখলে ইউক্রেন সেনার শক্ত প্রতিরোধের মুখে পড়েছে তারা।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের ঘোষণার পর বিমান হানার পাশাপাশি দূরপাল্লার ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল মস্কো। এরপর বেলারুশ, ডনবাস (ইউক্রেনের ডোনেত্স্ক ও লুহানস্ক অঞ্চলকে একত্রে এই নামে ডাকা হয়) দিয়ে অভিযান শুরু করে রুশ আর্মাড (ট্যাংক ও সাঁজোয়া গাড়ি সজ্জিত) এবং আর্টিলারি ডিভিশনগুলো।
প্রাথমিকভাবে শহরগুলোতে দূর থেকে হামলা চালাতে ৫৫০ কিলোমিটার পাল্লার ‘টস-১’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রুশ বাহিনী। টি-৭২ ট্যাংকের ওপর বসানো এই ‘মাল্টিপল লঞ্চ রকেট সিস্টেম’ (এমএলআরএস)-এর বিধ্বংসী ক্ষমতা মারাত্মক। কিন্তু শহরের রাস্তায় মুখোমুখি লড়াইয়ে তা কার্যকর নয়। এই পরিস্থিতিতে ‘বিএম-২১ গ্রাড’-এর ওপর নির্ভর করছে পুতিন-বাহিনী। গাড়ির ওপর বসানো এই এমএলআরএস-এর ৫০০ মিটার- ২০ কিলোমিটার মডেলগুলো ব্যবহার করেই লড়াইয়ে নেমেছে তারা। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।
গ্রাড-বাহী গাড়িগুলোকে সুরক্ষা দিতে অগ্রসর হচ্ছে রুশ ট্যাংকও। এই পরিস্থিতিতে রুশ বহরকে রোখায় ইউক্রেন সেনার প্রধান হাতিয়ার আমেরিকায় তৈরি এফজিএম-১৪৮ জ্যাভলিন। বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে গত কয়েক দিনে রাশিয়ার বেশ কিছু ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। রাজধানী কিয়েভের অদূরে পৌঁছে রুশ ফৌজের পিছিয়ে আসার নেপথ্যেও জ্যাভলিনের ভূমিকা রয়েছে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন। হাল্কা এই ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই একজন মাত্র সেনা বহন করতে পারেন। সিরিয়া এবং লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে ইতিমধ্যেই কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে এই ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র।
