বুধবারই রুশ সৈন্যরা ইউক্রেনের দক্ষিণের কৃষ্ণসাগরের কাছে বন্দর শহর খেরসন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। ইউক্রেনীয় প্রশাসন বৃহস্পতিবার নিজেরাই নিশ্চিত করেছে যে, প্রায় ৩ লাখ জনসংখ্যার শহরটি তাদের হাতছাড়া হয়ে গেছে। শহরের প্রশাসনিক সদর দপ্তর এখন রুশ সৈন্যদের নিয়ন্ত্রণে। গত কয়েক দিনের যুদ্ধে এই প্রথম ইউক্রেনের বড় কোনো শহর রুশ সৈন্যদের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিলো। অনেক সামরিক বিশ্লেষক বলছেন, নিপাহ নদী তীরবর্তী খেরসনের নিয়ন্ত্রণ রুশদের সামরিক কৌশলের দিক থেকে অনেক সুবিধা দেবে। কারণ এরপর সাগরপথে সৈন্য, অস্ত্র, সরঞ্জাম, রসদ নিয়ে এসে এই শহরকে ভিত্তি করে ইউক্রেনের ভেতরে ঢোকা সহজ হবে রুশ সৈন্যদের জন্য।
গবেষণা সংস্থা রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইন্সটিটিউটের সামরিক বিশেষজ্ঞ ড. জ্যাক ওয়াটলিং বিবিসিকে বলেন, খেরসনের নিপাহ নদী ইউক্রেনকে কার্যত দুই ভাগ করেছে। তিনি বলেন, এই নদীর তীরবর্তী শহরগুলো রুশরা একে একে দখল করতে শুরু করেছে। আর এর ফলে পূর্ব ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলে মোতায়েন ইউক্রেনের সৈন্যদের কাছে পশ্চিম অঞ্চল থেকে রসদ সরবরাহে বাধা তৈরি করতে পারবে রুশরা। এরপর রাশিয়া পূর্বে মোতায়েন ইউক্রেনীয়দের রসদ এবং সরঞ্জাম সরবরাহ বন্ধ করে দিতে শুরু করবে।’
রুশ সৈন্যরা এখন সবচেয়ে বেশি শক্তি প্রয়োগ করছে ইউক্রেনের দক্ষিণে। ক্রিমিয়া থেকে ঢোকা রুশ সেনা ইউনিটগুলো দক্ষিণের ছোট-বড় অনেকগুলো শহরে অবরোধ তৈরি করেছে। মস্কো মনে করছে, ইউক্রেনে সামরিক সাফল্য অর্জনে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাছাড়া রুশদের কাছে এই অঞ্চলটি চলে গেলে ক্রাইমিয়া এবং জাতিগত রুশ অধ্যুষিত ডনবাসের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে।
কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনের জলসীমার ঠিক বাইরে অনেক রুশ যুদ্ধজাহাজ জড়ো হয়েছে। ওডেসার কাছে রুশ ছত্রীসেনা নেমেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বুধবার একটি সামরিক স্থাপনায় রুশ যুদ্ধবিমানের হামলা হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে। ওডেসা বন্দরের কাছে সাগরে বৃহস্পতিবার এক বিস্ফারণের পর এস্তোনিয়ার একটি মালবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। বলা হয়েছে কৃষ্ণসাগরে রুশ সামরিক তৎপরতা অনেক বেড়ে গেছে। খেরসন, মারিওপোলের পর ওডেসাই যে রাশিয়ার পরবর্তী টার্গেট এ নিয়ে এখন আর কেউ সন্দেহ করছে না। সেটা হলে কৃষ্ণসাগর থেকে ইউক্রেন বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, যেটা অর্থনৈতিক এবং সামরিক দিক থেকে তাদের জন্য বিপদের কারণ হবে।
