তেঁতুলিয়ায় অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডাহুক নদী

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২২, ১০:০৫

নদীর দুই পাড় দখল হয়ে অস্তিত্ব হারাচ্ছে ডাহুক নদী। সংকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে নদীর গতিপথ। বিভিন্ন নদী দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে স্থাপনা। নদীর গতিপথ বন্ধ করে চলছে চাষাবাদ। জানা গেছে, জেলার তেঁতুলিয়া মাঝিপাড়া এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ১৪ কিলোমিটার প্রবাহিত হয়ে আবার ভারতে প্রবেশ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, বালু ও পাথর ব্যবসায়ীরা নির্বিচারে নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে পাথর-বালি উত্তোলন করছে। তিন বছর আগে স্থানীয় পাথর ব্যবসায়ীরা ড্রেজার মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনে ক্ষত-বিক্ষত করে নদীটি। স্থানীয় নদীপ্রেমীরা ড্রেজার বন্ধের দাবিতে রাস্তায় আন্দোলনে নামেন।

এদিকে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, একসময় বিপুল জলরাশি নিয়ে প্রবাহিত হতো এই নদী। নদীর স্বচ্ছ জলে পাওয়া যেত নানা রকমের সুস্বাদু দেশি মাছ।

সংবাদ ও পরিবেশকর্মী সরকার হায়দার বলেন, নদীটি নানাভাবে দখলের কারণে অর্ধেক মৃত। ডাহুক নামের কারণেই নদীটির পরিচিতি আছে সারা দেশে। এপার ও ওপারের দুটি ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষের কৃষি ও কর্মসংস্থানে এই নদীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু প্রভাবশালীদের প্রকাশ্য দখলে নদীটি মরে যাচ্ছে।

ডাহুক নদীর বর্তমান অবস্থা

তেঁতুলিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ জাবের আহমেদ জানান, নদীর গতিপ্রবাহ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ চন্দ্র সাহা বলেন, ডাহুক নদীর বিষয়টি আমি অবগত। নদী শাসনকল্পে নদীর সীমানা নির্ধারণ ও জরিপের জন্য তহশিলদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরিপের বিষয়টি চূড়ান্ত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানান, বিভিন্ন দিক দিয়ে নদীটি দখল হওয়ার কারণে প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে জানিয়েছি। ডাহুকের প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে খননের উদ্যোগ প্রয়োজন।

ইত্তেফাক/এমআর