পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগে গত দুই বছরে লেভেল ক্রসিংয়ে ২৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অথচ দুর্ঘটনা কমানোসহ সেবার মান বাড়াতে রেলওয়েতে প্রতি বছরই নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন প্রকল্প। অথচ পাকশী রেলওয়ের অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং যেন মৃত্যুফাঁদ। অন্যদিকে অনুমোদিত রেলক্রসিংয়ের একটি বড় অংশই অরক্ষিত। যে কারণে ঘটছে একের পর এক দুর্ঘটনা।
খুলনা-মৌচাক, ঈশ্বরদী-চিলাহাটি, আব্দুলপুর-রহনপুন, পোড়াদহ-গোয়ালন্দঘাট, মাঝগ্রাম-ঢালারচর, পাচুরিয়া-ভাঙা, কালুখালী-ভাটিয়াপাড়া এবং কাশিয়ান-গোপালগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত পাকশী বিভাগীয় রেলপথ। এসব রেলপথে মোট ২২৩টি রেলক্রসিং রয়েছে। মাত্র ৬০টি রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান রয়েছে। তবে তা-ও পর্যাপ্ত নয়। রয়েছে লোকবল সংকট। অরক্ষিত রেলক্রসিংই রয়েছে ১৬৩টি। অরক্ষিত ১৬৩টি রেলক্রসিংয়ের মধ্যে পাকশী রেলওয়ে বিভাগ থেকে রেলগেট নির্মাণ করা হয়েছে ২২টি। বাকি ১৪১টি রেলগেটই অবৈধ। স্থানীয়রা যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন। তারা বলছেন, অরক্ষিত এসব রেলক্রসিংয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। নেই সংকেত বাতি ও নিয়ন্ত্রণের কোনো রেলকর্মী।
জানা গেছে, পাকশী বিভাগীয় রেলপথের রেললাইনে গত দুই বছরে ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয়েছে ২৫ জনের। ২০২০ থেকে ২০২২ এই দুই বছরে ২৩টি ট্রেন দুর্ঘটনার মধ্যে অরক্ষিত লেভেল ক্রসিং এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটেছে আটটি। এর মধ্যে রেলের পাকশী বিভাগের অরক্ষিত রেলক্রসিং দিয়ে ট্রেন চলাচলের সময় কোনো বাধা না থাকার কারণে আট বার ট্রেন লাইনচ্যুত হয়েছে। মুখোমুখী ট্রেন দুর্ঘটনা ও ইঞ্জিন বিকল হয়ে দুই বার ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়েছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক বিভাগ, পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল ও বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা যায়।
পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলাম বাবু বলেন, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের বেশির ভাগই অবৈধভাবে করা। যাতায়াতের সুবিধার্থে স্থানীয়রা করেছে। অনুমোদন নিয়ে আমরা অরক্ষিত লেভেল ক্রসিংগুলো সংরক্ষিত করতে কাজ করে যাচ্ছি। পাকশী বিভাগীয় সংকেত ও টেলিযোগাযোগ প্রকৌশলী (টেলিকম) সৌমিক শাওন কবীর জানান, লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনা কমাতে পাকশী বিভাগীয় রেলের আওতায় লেভেল ক্রসিংয়ের গেটম্যানকে মোবাইল দেওয়া হচ্ছে। বিভাগীয় কন্ট্রোল রুম, স্টেশন মাস্টার ও রেলওয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যেন সার্বিক যোগাযোগ রাখতে পারে। এছাড়াও অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলোতে গেট তৈরি ও গেটম্যান নিয়োগের বিষয়টিও পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে।
