পুতিন কি ক্ষমতাচ্যুত হতে পারেন

আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২২, ১৫:২৭

টানা ১০ দিনের মতো চলছে ইউক্রেন-রাশিয়ার সংঘাত। দুই দেশের মধ্যে এই সংঘাত কতদূর পর্যন্ত গড়াতে পারে তা অনুমান করা বেশ কঠিন। এর মধ্যেও বিশ্লেষকরা বুঝে ওঠার চেষ্টা করছেন আগামী দিনগুলোতে ইউক্রেনের এই সংঘাত ঠিক কোন দিকে যেতে পারে। এর মধ্যে একটি একটা গুরুতর প্রশ্ন, রুশ ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রে কি হবে? 

ইউক্রেন অভিযান শুরু করার সময় তিনি বলেছিলেন, 'আমরা যে কোন পরিণতির জন্য তৈরি।' কিন্তু সে পরিণতি যদি এই হয় যে পুতিনকেই ক্ষমতা হারাতে হলো? 

এখন হয়তো মনে হচ্ছে যে ব্যাপারটা অচিন্ত্যনীয়। কিন্তু এখন দুনিয়া বদলে গেছে, এরকম একটা সম্ভাবনার কথাও ভাবা হচ্ছে।

লন্ডনের কিংস কলেজের ওয়ার স্টডিজের অধ্যাপক স্যার লরেন্স ফ্রিডম্যান এ সপ্তাহেই এক নিবনন্ধে লিখেছেন, 'এটা এখন খুবই সম্ভব যে কিয়েভ এবং মস্কো- যে কোনোখানেই ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতে পারে।'  

কেন তিনি একথা বলছেন? এর কারণ সম্ভবত এটাই - পুতিন এক বিপর্যয়কর যুদ্ধে নেমেছেন। এতে হাজার হাজার রুশ সৈন্য মারা যেতে পারে। অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনতে পারে দুর্ভোগ। পুতিন জনসমর্থন হারাতে পারেন।

হয়তো একটা গণবিপ্লবের হুমকিও সৃষ্টি হতে পারে। তিনি হয়তো বিরোধীদের দমনের জন্য রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করতে পারেন।

কিন্তু এটা তিক্ততা সৃষ্টি করতে পারে এবং রাশিয়ার সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক এলিট শ্রেণী পুতিনের বিপক্ষে চলে যেতে পারে। 

পশ্চিমা বিশ্ব এটা স্পষ্ট করে দিতে পারে যে যদি পুতিন বিদায় নেন ও তার জায়গায় একজন অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী নেতা আসেন - তাহলে রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হতে পারে, স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্কও পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

হয়তো রাশিয়ায় একটা রক্তাক্ত প্রাসাদ অভ্যুত্থান ঘটে যেতে পারে পুতিন উৎখাত হতে পারেন। 

তবে এক্ষুণি হয়তো এমন কিছু ঘটবে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু পুতিনের কারণে যারা লাভবান হয়েছেন তারাই যদি মনে করেন যে তিনি আর তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারছেন না- তাহলে সেরকম কিছু ঘটে যেতেই পারে। তথ্যসূত্র: বিবিসি। 

ইত্তেফাক/এসআর