গুম-খুনের সঙ্গে জড়িতদের সবার বিচার করা হবে উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই সরকার দেশটাকে একটা নরকে পরিণত করেছে। আশা করি এ অন্ধকার কেটে যাবে। মানুষ জেগে উঠছে। জেগে উঠবে, ইনশাআল্লাহ। আওয়ামী লীগ যে পরিস্থিতি তৈরি করেছে, এজন্য প্রত্যেকটি গুম-খুনে দায়ী ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। জনগণই তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
গতকাল শনিবার সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী হেলপ সেলের উদ্যোগে বর্তমান সরকারের আমলে গুম-খুনের শিকার নেতাকর্মীর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক অনুদান প্রদান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিরোধীদলের ওপরে সরকারের নিপীড়ন-নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, কোর্টে যখন যাই, সেখানে গিয়ে অন্য কোনো লোককে খুঁজে পাই না, সব আমাদের লোক। এমন অনেকে আছেন তারা নেতাও না, যারা হয়তো বা সমর্থক তাদের বিরুদ্ধেও অসংখ্য মামলা। চলছে সেই ধারাবাহিকতা, এখনো বন্ধ হয়নি। এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং, তুলে নিয়ে গেছে ও গুলি করে হত্যা করেছে বা পঙ্গু করে দিয়েছে। উপস্থিত গুম হওয়া পরিবারের সদস্যদের দিকে তাকিয়ে আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে এই পরিবারগুলোর দিকে তাকিয়ে নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হয়। কেন এই শিশুরা যন্ত্রণা পাচ্ছে? তারা শুধু মানসিক না তারা আর্থিক দিক থেকেও অত্যন্ত কষ্টে আছে। এমন পরিবার আছে যে ঐ বাচ্চাটার লেখাপড়ার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে গেছে, চিকিৎসার খরচ জোগানো কঠিন হয়ে গেছে।
জাতীয়তাবাদী হেলপ সেলের সদস্য তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে ও মামুন খানের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বিএনপির আবদুস সালাম, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, ডা. রফিকুল ইসলাম, আবদুল কাদির ভুঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের কাজী রওনাকুল ইসলাম শ্রাবণ, ইকবাল হোসেন শ্যামল বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে গুম-খুন-নির্যাতিতদের মধ্যে ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ছাত্রদলের নুরুল আলম নুরুর মেয়ে উম্মে হাবিবা মীম, পারভেজ রেজার মেয়ে হৃদি, স্বেচ্ছাসেবক দল কাউসার আহমেদের মেয়ে লামিয়া আখতার মীম ও পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন তাদের বেদনার কথা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে গুম-খুন-নির্যাতিত ১৫ পরিবারের শিশুদের মধ্যে ‘শহীদ নুরুল আলম উপবৃত্তি’ দেওয়া হয়।
