ঠাকুরগাঁওয়ে সন্তানের সামনে মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২২, ১৮:৩৩

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নের মধুপুর গুদাম পাড়া এলাকায় এক গৃহবধূকে (২৭) তার তিন বছরের শিশু সন্তানের সামনে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (৬ মার্চ) দুপুরে সংবাদকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন নির্যাতনের শিকার ওই নারী। 

তার অভিযোগ, গত শুক্রবার গভীর রাতে ওই ইউনিয়নের মিশন রেলগেট কোয়ার্টারে এই ঘটনা ঘটে। বিচার না পাওয়া ও প্রভাবশালী মহলের হুমকিতে অসহায় দিন পার করছে তিনি।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রুহিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের এক নারীকে একই এলাকার পুঞ্জিকা সাধক ও তান্ত্রিক প্রকাশ ঝোল গুপ্তধনের সন্ধান দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে এক মন্দিরে নিয়ে যায়। তান্ত্রিক ঝোল সু-কৌশলে ওই নারীকে মিশন রেলগেট কোয়ার্টারে নিয়ে আসে এবং সন্তানকে পাশে রেখে তাকে ধর্ষণ করে। পরে তার বন্ধু রুহিয়া মিশন রেল গেটম্যান শামীম (৩০), এনামুল হক (৩৭), মেজর (২৮), উজ্জল দাসকে (৩৫) ডেকে আনলে তারাও ওই নারীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়। 

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ঘটনাটি তার আত্মীয়-স্বজনকে জানালে শনিবার সকালে রুহিয়া থানায় মামলা করতে যান নির্যাতনের শিকার ওই নারী। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি মামলা না করার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন।

নির্যাতনের নারীর অভিযোগ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করতে গেলে বর্তমান ইউপি সদস্য ইউসুফ আলী আমাদের বাধা প্রদান করেন আর সমাধানের জন্য দুই দিন সময় নেন। আজ রবিবার সন্ধ্যায় বসার কথা রয়েছে। অন্যদিকে ইউপি সদস্য ইউসুফ আলীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করে ধর্ষণের বিষয়টি জানতে চাইলে ফোনটি কেটে পরে বন্ধ করে দেন।

অভিযুক্ত তান্ত্রিক ঝোল রুহিয়া মধুপুর এলাকার বাসিন্দা, আর শামিম রুহিয়া মিশন রেলগেটম্যান ও পীরগঞ্জ লোহাগাড়ার আব্দুল রাজ্জাকের ছেলে, এনামুল হক ছুটু, মেজর এর বাবা মনিরউদ্দীন,  উজ্জল দাস  বাবা পাউলুস দাস তারা দুজনেই রুহিয়া ঘনিবিষ্টপুর এলাকার বাসিন্দা।

এ বিষয়ে সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য (সাবেক) বিনা রাণী জানান, এই গৃহবধূ অত্যন্ত গরীব। একই এলাকার সাধক ঝোল তাকে বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে মিশন রেল গেটে নিয়ে যায়। পরে গেটম্যানসহ চার যুবক তাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।

রুহিয়া ঘনিবিষ্ণুপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তসলিম উদ্দিন বলেন, ইউসুফ মেম্বার ওই নারীকে মামলা করতে নিষেধ করেন। সেইসঙ্গে মুখ বন্ধ রাখার জন্য কিছু টাকা পয়সার প্রস্তাব দেন এবং তার ভাইয়ের বাসায় কয়েকদিন লুকিয়ে থাকার জন্য চাপ দেন। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুল হক বাবু জানান, একটি মহিলার হারিয়ে যাওয়া। আবার পরের দিন সকালে  খুজে পাওয়ার ঘটনা আমি শুনেছি। কিন্তু ধর্ষণের বিষয়টি আমি জানি না। 

রুহিয়া থানার ওসি চিত্ররঞ্জন রায়ের কাছে মামলা না নেওয়া বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি এড়িয়ে যান। লিখিত অভিযোগ পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন তিনি।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুলতানা রাজিয়া বলেন, শিশু সন্তানের সামনে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। আমি খোঁজ নিয়ে পুলিশ পাঠাচ্ছি। স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য ওই গৃহবধূর পরিবারকে চাপ দেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় কোনো সমাধান হয় না। যারা এই জঘন্য কাজ করেছে বা যারা সমাধানের জন্য চাপ দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি