ভূমিদস্যুদের দখলে ‘এশিয়ান এইজ’ প্রকাশকের বাড়ি

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ১৬:১১

দেশের প্রথম শ্রেনির ইংরেজি দৈনিক ‘এশিয়ান এইজ’ সংবাদপত্রের প্রকাশক মো. আল আমিন চৌধুরীর পৈতৃকি সম্পত্তি দখল করে রেখেছে স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারী। থানাতে সাধারন ডায়েরীর পরও পাচ্ছে না কোন ধরনের সুরাহা হচ্ছে না ফলে উৎকন্ঠায় তার পরিবার।

জানা গেছে, আল আমিন চৌধুরী ঢাকা থেকে প্রকাশিত `দৈনিক এশিয়ান এইজ' এর প্রকাশক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার কণিকাড়া গ্রামের মুর্শিদ আলম চৌধুরীর ছেলে। একই থানার অন্তর্গত বিদ্যাকুট মৌজার ১০০৫৫ নং দাগে অবস্থিত ০৬ (ছয়) শতাংশ আয়তনের বাড়িটি মো. আল আমিনের পিতা মুর্শিদ আলম চৌধুরীর মালিকানাধীন। প্রায় ৩ দশক আগে পারিবারিক বন্টনে আল আমিন চৌধুরী বর্তমানে এই বাড়ির মালিক। 

পত্রিকা প্রকাশনাসহ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে আল আমিন চৌধুরীকে ঢাকায় অবস্থান করতে হয়। ফলে তিনি  আব্দুল মান্নানকে কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব দেয়ার পর আব্দুল মান্নান স্বপরিবারে এই বাড়িতেই বসবাস করতেন। আব্দুল মান্নানের মৃত্যুর পর তার ছেলে মোবারক হোসেন, শামছুল হক, জিয়াউল হকসহ অন্যান্যরা বসবাস করছে।

এ অবস্থায় আল আমিন নিজ গ্রামের বাড়িতে বসবাসের চিন্তাভাবনা থেকে গ্রামে এসে বাড়িটি পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি আব্দুল মান্নানের ছেলেদেরকে এ বাড়ি ছেড়ে দিতে বললে। তখন তারা আল আমিনসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন হুমকি-ধমকিসহ প্রাণনাশের হুঁমকিও দেয়।  আর এসবের নেতৃতে দিচ্ছে মৃত্যু আব্দুল মান্নানের(কেয়ারটেকার) ছেলে মোবারক হোসেন।

এশিয়ান এইজের প্রকাশকের বাড়ি ভূমিদস্যুদের দখলে বিষয়ে ইতিমধ্যে নবীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। পাশাপাশি নবীনগরের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। তাঁদের পাশাপাশি গত ১৫ জানুয়ারি নবীনগর থানায় জিডির মাধ্যমে আইনানুগ প্রক্রিয়া শুরু করেছেন (যার নং-৮৪৪)। 

একদিকে মান সম্মান ও পারিবারিক সম্পত্তি জবর দখল, অন্যদিকে নিজের জীবনসহ পরিবারের সদস্যদের জীবনের উপর হুমকি এসব নিয়ে আল আমিন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

নিজের বাড়ি দখল বিষয়ে এশিয়ান এইজ এর প্রকাশক মো. আল আমিন চৌধুরী বলেন- ‘আমার বাড়ি দেখাশুনার জন্য কেয়ারটেকার রেখেছিলাম। এখন কেয়ারটেকারের ছেলেই স্থানীয় কয়েকজন অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কুপরামর্শে আমার বাড়িটি কব্জা করার ষড়যন্ত্র করছে। আমি তাদের কবল থেকে আমার বাড়িটিও মুক্ত করতে পারিনি। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

বাড়ি দখল করার বিষয়ে মোবারক হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোন কল করেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


ইত্তেফাক/এনএ