নিয়ন্ত্রণহীন তেলের বাজার, উধাও খোলা সয়াবিন 

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ০০:১২

নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে ভোজ্যতেলের বাজার। অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে সয়াবিন ও পাম অয়েলের। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার কোনো কোনো বাজার থেকে রীতিমতো উধাও হয়ে গেছে খোলা সয়াবিন। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) যথারীতি গতকালও তাদের বাজারদরের প্রতিবেদনে রাজধানীর বাজারে খোলা সয়াবিন না পাওয়ার বিষয়টি   জানিয়েছে। এ নিয়ে পরপর টানা তিন দিন টিসিবি তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরল। এছাড়া যে বোতলজাত সয়াবিন পাওয়া যাচ্ছে, তাও সরকারনির্ধারিত দরের চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছেন ভোক্তারা। তাদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে।

সয়াবিন তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে মনিটরিং সেল গঠন ও নীতিমালা তৈরি করার নির্দেশনা চেয়ে গতকাল রবিবার হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। এতে বাণিজ্যসচিব, ভোক্তা অধিকার কতৃ‌র্পক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এস এম মনিরুজ্জামানের দ্বৈত বেঞ্চে এই রিটের ওপর শুনানি হবে। সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী এই রিট দায়ের করেন।

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিনিয়ত সয়াবিন, পাম অয়েলের দাম বাড়ছে, তাই তাদের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই। গত ২৭ ফেব্র‚য়ারি ভোজ্য তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যাসোসিয়েশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে আরো ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করে।

এ প্রসঙ্গে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতা গোলাম মাওলা জানিয়েছেন, বাজারে চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ কম। ফলে একধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভোজ্য তেল বিপণনকারী একটি কোম্পানির পরিচালক ইত্তেফাককে বলেছেন, বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। তাই বিশ্ববাজারের দামের সঙ্গে মিলিয়ে দেশে যদি যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করা না হয়, তাহলে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হতে পারে।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘দেশে চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট পরিমাণে সয়াবিন ও পাম অয়েল মজুত আছে। তাই সংকট হওয়ার কোনো কারণ নেই। কেউ বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ারের নেতৃত্বে এই অভিযানে অংশ নেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল, ফাহমিনা আক্তার ও মাগফুর রহমান। এ প্রসঙ্গে মো. আব্দুল জব্বার মন্ডল ইত্তেফাককে বলেন, সরকারনির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সয়াবিন, পাম অয়েল বিক্রি ও মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে।

রাজশাহীতে সয়াবিনের কৃত্রিম সংকট:

রাজশাহী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানিয়েছেন, জেলায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। গ্রাহক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কৃত্রিমভাবে এই সংকট তৈরি করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা: চট্টগ্রাম অফিস জানিয়েছে, গতকাল নগরীর চাক্তাই ও জিইসির মোড়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর অভিযান চালিয়ে হাজি ইমাম শরীফ অ্যান্ড ব্রাদার্স ও মেসার্স কাশেম অ্যান্ড ব্রাদার্সকে তেল বেচাকেনার ভাউচার সংরক্ষণ না করা ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

কুমিল্লায়ও অভিযান: কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, বেশি দামে তেল বিক্রির অভিযোগে রূপচাদা কোম্পানির ডিলার মেসার্স চিন্তা হরণ সাহাসহ চার দোকানিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/কেকে