বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ০৩:৩৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ৮০ ভাগ লোকের জীবিকা আমনির্ভর। শতাধিক বছর আগে থেকেই শিবগঞ্জে আম অর্থকরী ফসল। বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কানসাট রাজার বাগানে এগিয়ে চলেছে বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়ামের কাজ। এতে করে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হতে যাচ্ছে।

কানসাট রাজার বাগানে প্রায় ৩২ একর খাস জমিতে রয়েছে ১০০ বছরের পুরনো ১৬ জাতের ২১০০ আমগাছ। ময়মনসিংহের জামিদার রাজা শসিতকান্ত আচার্য কানসাটে কাচারি বাড়ি নির্মাণ করেন। তাঁর হাতেই এ আম বাগান তৈরি, যা ‘কুজ্জা রাজার বাগান’ নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধু লাইভ ম্যাংগো মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত হলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে সীমানাহীন বাগানটির সীমানা নির্ধারণ করা হয়। জাতির পিতার মুর্যালসহ দৃষ্টিনন্দন ফটক নির্মাণ, পুকুর খনন, ১০০ জাতের আমের নামকরণসহ ম্যাংগোপিডিয়া প্রকাশ, আধুনিক জার্মাপ্লাজমের চারা রোপণ, টপ ওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে পুরনো গাছকে আধুনিক গাছে রূপান্তর, নার্সারি নির্মাণ, পর্যটকদের জন্য ছাউনির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাগানের মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে আরসিসি রাস্তা, আমজাত পণ্যের প্রদর্শনী কেন্দ্রও। প্রতি একরে ১৫ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের লক্ষ্যে আলট্রাহাইডেন সিটি পদ্ধতিতে আম চাষের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে আমের জাত সংগ্রহ ও জার্মপ্লাজম তৈরি হচ্ছে, যেখান থেকে আমচাষিরা উন্নত জাতের স্যাপলিং সংগ্রহ করে আম ব্যবসায় সম্প্রসারণ ঘটাতে পারবেন। এ মিউজিয়ামে পাওয়া যাবে জি আই সনদপ্রাপ্ত খিরসাপাত আমের স্যাপলিং। এখানে বিদেশি আমের কর্নারে জাপানের মিয়াজাকি, দিল্লির চোষা, আমেরিকার ব্লাকস্টার, সুমিষ্ট চিয়াং মাই অ্যাপেল ম্যাংগো ও ব্লু ম্যাংগো লাগানো হয়েছে। আরো লাগানো হবে বিলুপ্ত প্রজাতির আম ‘মেমপছন্দ’, ‘গর্জিত’, ‘বউভুলানো’ বিভিন্ন আমের চারা। এ বছর বিভিন্ন প্রজাতির চারা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিককে স্মরণীয় করে রাখতেই এই মিউজিয়াম। যার মাধ্যমে শিবগঞ্জের গৌরব বাড়বে, আমচাষিরা তাঁদের ন্যাঘ্য অধিকার পাবেন। সর্বোপরি বাংলাদেশের আমের খ্যাতি ছড়াবে। 

ইত্তেফাক/কেকে