সারিয়াকান্দিতে মরিচের ভালো ফলন

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ১২:০৮

বগুড়ার সারিয়াকান্দির যমুনার চরে মরিচের ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলার মরিচের খেতগুলোতে এখন পাকা লাল মরিচ শোভা পাচ্ছে। সারা চর জুড়ে এখন চলছে মরিচ তোলার ধুম। অন্যদিকে বাজারে দাম ভালো থাকায় খুশি কৃষকরা। 

তারা জানান, বগুড়ার মধ্যে যমুনা নদী বিধৌত সারিয়াকান্দির মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় এখানে মরিচের আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়। এবার বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জমিতে নানা জাতের ফসল ফলাতে ব্যস্ত সময় হয়ে পড়েন তারা। বন্যার পানি আগেই নেমে যাওয়ায় কৃষকরা আগাম জাতের বিভিন্ন ফসল জমিতে লাগিয়েছিলেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো মরিচ। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, এ বছর ৩ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ হাজার টনের ওপরে (শুকনো) আকারে।

কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের শোনপচা চরের কৃষক মামুন মিয়া জানান, ‘হামি প্রতিবছর মরিচের আবাদ করি। গত বছর দেশি মরিচত লোকসান হছিল। এ বছর পাঁচ বিঘা জমিত মরিচ করছি। এর মদে তিন বিঘা জমিতে হাইব্রিড মরিচ করছি। হের মদেই বেশ কয়েক বার হাইব্রিড মরিচ কাঁচা বিক্রি করছি। দামও মোটামুটি ভালোই পাছি। বেশ ভালো লাভ পাছি। দেশি মরিচ একন পাকে গেছে।’ 

কাজলা ইউনিয়নের বাওইটোনা চরের কৃষক বাদশা মিয়া জানান, বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই মরিচের আবাদ করেছি। কয়েক দিন আগে মরিচের দাম কম ছিল। দাম ভালো পাওয়ায় আশা করছি লাভবান হব। চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের মানিকদাইড় চরের সায়েদ মন্ডল জানান, প্রায় ১০ বিঘা জমিতে তিনি মরিচের আবাদ করেছেন। পাকা মরিচ জমি থেকে তুলে উঠানে শুকাতে দিয়েছেন।

সারিয়াকান্দির মরিচের আড়তদার রফিকুল ইসলাম জানান, আমরা কাঁচা মরিচ কিনে খুলনার দৌলতপুরে বিক্রি করি। লাল মরিচ বিভিন্ন কোম্পানির ডিলাররা কিনে নিয়ে যায়। লাল টোবা মরিচ এক-দেড় হাজার টাকা মণ দরে এবং কাঁচা মরিচ ৭০০-৮০০ টাকা মণ দরে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে। 

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, এ বছর বন্যা কম হওয়ায় কৃষকরা আগামভাবে চরাঞ্চলে ফসল চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। শুরুর দিকে কৃষকরা ভালো দাম পেয়েছেন। মধ্যে একটু দাম কম ছিল। এখন আবার দাম পাচ্ছেন কৃষকরা।

 

ইত্তেফাক/ ইআ