হবিগঞ্জের বিভিন্ন নদীতে পানিপ্রবাহ কম, নৌচলাচল ব্যাহত

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ১২:৩১

হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন নদনদীতে পানিপ্রবাহ কমে গিয়ে চর পড়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক নৌচলাচল ও সেচ কার্যক্রম। খোয়াই, করাঙ্গী, সুতাং, সোনাই, ভেড়ামোহনা, সুটকী, রত্না, বিজনা ও কুশিয়ারা নদীতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ না থাকায় মালবাহী বড় বড় নৌকা ও লঞ্চ চলাচলে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতের ত্রিপুরা পাহাড় থেকে বয়ে আসা খরস্রোতা খোয়াই নদীর পানির সঙ্গে প্রচুর পলিমাটি আসায় নদীর গভীরতা আগের ২০ ফুটের স্থলে বর্তমানে ১১-১৪ ফুটে দাঁড়িয়েছে। ১৫০ ফুট প্রশস্ত এই নদীতে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার কিউসেক। বর্ষাকালে তা দ্বিগুণ এবং শীতকালে ১০০ কিউসেকে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, নদীর উজানে ভারতের খোয়াই মহকুমার পদ্মবিল নামক স্থানে নির্মিত বাঁধের মাধ্যমে খোয়াই নদীর পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করায় নদীতে পানির প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে কমে গেছে। একই কারণে অপরাপর নদীগুলোতে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ মারাত্মক ভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে জেলার ভাটি অঞ্চলে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বোরো ধান চাষাবাদে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া বানিয়াচং উপজেলার মাকু‌র্লী বাজারের পূর্ব দিকে কুশিয়ারা ও বিবিয়ানা নদীর সংযোগ স্থলে চর পড়ায় বর্ষাকালেও স্বাভাবিক নৌচলাচল ব্যাহত হয়। মাকু‌র্লী থেকে হিলাল নগর পর্যন্ত নদীতে চর পড়েছে। আজমিরীগঞ্জ থেকে শেরপুর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদীপথের বিভিন্ন স্থানে চর পড়ায় যাত্রী ও মালবাহী লঞ্চ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। জেলার ভাটি অঞ্চলে, বিশেষ করে বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য সারা বছরই স্বাভাবিক নৌচলাচলের ওপর বহুলাংশে নির্ভরশীল। নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ হ্রাস পেয়ে নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীদের মালামাল পরিবহন ব্যয়ও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহানেওয়াজ তালুকদার বলেন, জেলার নদীগুলোর নাব্য, পানির ধারণক্ষমতা ও সেচসুবিধা বৃদ্ধি এবং নৌযোগাযোগ অব্যাহত রাখার জন্য ড্রেজিংসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে লাখাই থেকে কামড়াপুর পর্যন্ত খোয়াই নদীতে ৪৫ কিলোমিটার এবং কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রামের খলাগাঁও থেকে হবিগঞ্জের রত্না-ধলেশ্বরী নদীর মোহনা পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার অংশ ড্রেজিংয়ের জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয় সাপেক্ষে একটি পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করার পর অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় কাজ করা হবে।

ইত্তেফাক/ ইআ