রাজশাহীতে নিহত এসআইয়ের শেষ গন্তব্য নিয়ে ‘রহস্য’

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২২, ১৬:৪৮

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে নিহত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) নূর ইসলামের শেষ গন্তব্য নিয়ে রহস্য দেখা দিয়েছে। ঘটনার রাত সোয়া ১২টায় তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে নিজ কর্মস্থল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের পথে না গিয়ে রাজশাহীর তানোরের দিকে যাচ্ছিলেন। তার মোবাইলের কললিস্ট ধরে তার তানোরের পথে যাওয়ার এবং অস্বাভাবিক মৃত্যুর রহস্য খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাত সোয়া ১২টায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়ক হয়ে তানোরের দিকে যাচ্ছিলেন এসআই নূর ইসলাম। পথে ওই সড়কের বিশ্বনাথপুর কাজীপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশে তাকে আহত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তখনও তিনি জ্ঞান হারাননি। বরং পুরনো কর্মস্থল গোদাগাড়ী উপজেলার পরিচিত কিছু মানুষকে ফোন করে উদ্ধারের আবেদন জানান।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, নিহত এসআই নূর ইসলাম ঘটনাস্থলে মারা যাননি। তার মোবাইলের কললিস্ট দেখে পুলিশ কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, তিনি দুর্ঘটনার পর তার পরিচিত গোদাগাড়ী উপজেলার কিছু মানুষকে ফোন করেন। এ সময় তাকে উদ্ধারের জন্য তিনি ওই পরিচিত ব্যক্তিদের সাহায্য চান। তবে তাদের ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই স্থানীয়রা এসআই নূর ইসলামকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ সূত্র জানায়, নূর ইসলাম এক সময় রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানায় কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি তানোর ও বাগমারা থানায় দায়িত্ব পালন করেন। বাগমারায় দায়িত্ব পালনকালে একটি নারী নির্যাতন মামলায় একপেশে ও দায়িত্বহীনভাবে চার্জশিট দেন। এ ঘটনা প্রমাণ হলে শাস্তি হিসেবে তাকে জেলা পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করা হয়। সর্বশেষ এক মাস আগে এসআই নূর ইসলামকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মডেল থানায় পদায়ন করা হয়।

সূত্র মতে, এক সপ্তাহ আগে তিনি বাসাবদল করার কথা বলে ছুটি নেন। গত শুক্রবার রাত সোয়া ১২টায় গোদাগাড়ী-আমনুরা সড়ক হয়ে তিনি তানোরের পথে যাচ্ছিলেন। এ থেকে পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্টরা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন। এতো রাতে তিনি কেন তানোরের পথে যাবেন? তার কর্মস্থল তো চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
 
এ বিষয়ে রাজশাহীর পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাগমারায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে নূর ইসলাম ক্লোজড হয়েছিলেন। তবে মানুষ হিসেবে খারাপ ছিলেন না। তাকে কখনও নেশাগ্রস্থ বলেও মনে হয়নি। তবে রাত সোয়া ১২টায় তিনি নিজ কর্মস্থলের পথে না গিয়ে তানোরের পথে কেন যাচ্ছিলেন? এ নিয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাই তার ফোনের কললিস্ট ধরে তদন্ত করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, নিহত নূর ইসলামের পরিবার তার মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে আপত্তি করেছিল। তাই ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ তার পরিবারের মাধ্যমে গ্রামের বাড়ি যশোরে নিয়ে দাফন করা হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা আইনে মামলা হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসজেড