২০২৩ সালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ প্রস্তুত করতে যাচ্ছে কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন মহলের সঙ্গে পরামর্শ করার পর আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।
তিনি বলেছেন, আগামী রবিবার (১৩ মার্চ) থেকে ধারাবাহিক সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন। পর্যায়ক্রমে শিক্ষাবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, নির্বাচন বিশ্লেষক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বসা হবে। গতকাল বুধবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
মো. আলমগীর বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনায় সবার পরামর্শের আলোকে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে। সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য যা যা প্রয়োজন করার চেষ্টা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করা হবে সবার শেষে।
১৩ মার্চ বেলা ৩টায় শিক্ষাবিদদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সংলাপ শুরু হবে। ঐ সংলাপে অংশ নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে দেশের ৩০ জন শিক্ষাবিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সংলাপে আমন্ত্রণ জানিয়ে ইসি সচিবালয় চিঠি পাঠানো শুরু করেছে। পরে বুদ্ধিজীবী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক, সাংবাদিকদের সঙ্গেও সংলাপে বসার পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। প্রতি সপ্তাহে একটি করে সংলাপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। আগামী ২২ মার্চ সুশীল সমাজ এবং ৩০ মার্চ গণমাধ্যমের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে নতুন ইসির।
ইসি সূত্র জানায়, কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কমিশনের আনুষ্ঠানিক কোনো সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনাররা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধির সঙ্গে সংলাপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম ধাপের সংলাপে যে ৩০ জন শিক্ষাবিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম, অধ্যাপক জাফর ইকবাল, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, অধ্যাপক আবুল কাসেম মজুমদার, ড. সাদেকা হালিম; রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. নাজমুল আহসান কলিম উল্লাহ, অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ প্রমুখ।
এর আগে ২০১৭ সালে কে এম নুরুল হুদা কমিশনও দায়িত্ব নেওয়ার পর সমাজের বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল। ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসার মধ্য দিয়ে ঐ সংলাপ শুরু হয়েছিল। পরে নুরুল হুদা কমিশন ৪০টি রাজনৈতিক দল, নারী নেতৃত্ব, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সংলাপে বসেছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে সংলাপ শুরু করতে যাচ্ছে।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সিইসিসহ চার কমিশনার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে। নির্বাচন কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব খান, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, সাবেক সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও ইসির বাকি চার সদস্য শপথ নেন। পরদিন ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন কমিশন ইসিতে যোগদান করেন। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন কমিশনের অধীনেই আগামী ২০২৩ সালে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
