চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এবার লিওনেল মেসিকে দলে চুক্তিবদ্ধ করায় পিএসজি। আগে থেকেই ছিল নেইমার ও এমবাপ্পে। তখন সবাই ভেবেছিল, এটাই বুঝি বর্তমানে বিশ্বের সেরা আক্রমণভাগ। কিন্তু মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি সময় চলে যাওয়ার পরও নিজেদের প্রমাণ করতে ব্যর্থ এই ত্রয়ী।
গতকাল বুধবার (৯ মার্চ) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হয় পিএসজি। প্রথম লেগ ও ফিরতি লেগের প্রথমার্ধ শেষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পরও অবিশ্বাস্যভাবে হেরে গেছে তারা। এর মধ্য দিয়ে ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট থেকে ফরাসি জয়ান্টদের বিদায় নিশ্চিত হলো। আগের বছর সেমিফাইনাল খেললেও এবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো প্যারিসিয়ানদের।
দুই লেগ জুড়ে আলো ছড়িয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার ওপর ভর করেই রিয়াল মাদ্রিদকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছিল পিএসজি। কিন্তু গতরাতে করিম বেনজেমার ১৮ মিনিটের অবিশ্বাস্য হ্যাটট্রিক জাদুতে আবারও চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের স্বপ্ন অধরা থেকে গেলো প্যারিসিয়ানদের।
৬১ মিনিটে করিম বেনজেমা তার প্রথম গোলটি পায়। অবশ্য এটার জন্য পিএসজির ইতালিয়ান গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার কিছুটা দায় রয়েছে। নিজের পায়ে বল ছিল, সেটি সময়মতো সতীর্থকে দিতে পারলেই সমস্যা ছিল না। কিন্তু তিনি দেরি করে ফেলেন। ততক্ষণে বেনজেমা চলে আসেন এবং বল কেড়ে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। তখন দোন্নারুম্মা অসহায়ভাবে বলটাকে কোনোরকমে ঠেলে দিলে বক্সেই ওঁৎ পেতে থাকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সেটি ধরে কাট ব্যাক করলেন। বেনজেমা মুহূর্তের মধ্যেই বলটিকে জালে জড়িয়ে দিলেন।
ব্যস, এর পরই নতুন করে জেগে ওঠে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু। পুরো ম্যাচে কতৃত্ব দেখানো পিএসজি ক্রমশ কোনঠাসা হতে শুরু করে। ৭৬ মিনিটে আবারও বেনজেমার গোল। নিজেদের অর্ধ থেকে দারুণভাবে বল বের করে নিয়ে এলেন ৩৬ বছর বয়সী মদরিচ। দারুণ থ্রুতে ভিনিসিয়ুসকে বল ঠেলে দেন। ব্রাজিলিয়ান তরুণ গোলের সুযোগ পেলেও সেটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। তবে বল হারাননি এবং সেটি আবার মদরিচকেই পাস দিলেন। সেখান থেকে বল বেনজেমার পা এবং জাল খুঁজে নিতে কষ্ট হয়নি ফরাসি স্ট্রাইকারের। এর দুই মিনিট পর অবিশ্বাস্যভাবে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রিয়াল অধিনায়ক।
পিএসজির এমন পরাজয়ের কারণে আবারও দলটির রক্ষণভাগের দুর্বলতা ফুটে ওঠেছে। তারা যে প্রতিপক্ষের জোড়ালো আক্রমণ ঠেকাতে ব্যর্থ সেটা আবারও প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য মৌসুমের শুরু থেকেই তা স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছিল।
