মানুষের চলমান জীবনে কত ঘটনাই ঘটে। তার মধ্যে কিছু ঘটনা মানুষকে আষ্টেপৃষ্ঠে গেঁথে রাখে। করোনাকালীন সময়টা মানুষকে দীর্ঘদিন এমন আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। এরই একটা ছোট্ট উপাখ্যান সাজিয়েছেন নজরুল ইসলাম। তাঁর রচিত ‘তিনশ পয়ষট্টি দিন’ গ্রম্হে তিনি দেখিয়েছেন একজন স্বশিক্ষিত মানুষের বোধ, পরিবার, দুটি যুবা বয়সির কাছে পাওয়া না-পাওয়ার দ্বন্দ্ব, আর সামাজিক টানাপড়েনে করোনার থাবা।
এই উপন্যাসে মুক্তিযুদ্ধের একটি খণ্ডচিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কলসকাঠি গ্রামের পূর্ব মাথায় একটা বড় রেইনট্রি রয়েছে। মানুষ ঐ জায়গাটিকে বলে রেন্ডিতলা। গ্রামের বাড়িগুলোর দিক নির্দেশনায় রেন্ডিতলা একটি আইকন হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। রেইনট্রিটি অনেক পুরনো। কত বছরের সেটি কেউ বলতে পারে না। কয়েকজন অশীতিপর বৃদ্ধ এখনো এটিকে নিয়ে গল্প করতে গিয়ে বলেন, আমাদের ছেলেবেলায়ও এমনই দেখেছি গাছটিকে। কত লোক বুড়ো হলো, গাছটি কিন্তু বুড়ো হলো না। কিছু বকের বাসা আছে গাছটির চূড়ায়। বাদুড়ের একটা স্বর্গরাজ্যও বলা যায় এ গাছটিকে। সন্ধ্যা আর নিকষ ভোরের আবছা আলোয় তাদের ঘরছাড়া আর নীড়ে ফেরার সময়টা মুখর হয়ে ওঠে গাছটি।
মহান মুক্তিযুদ্ধেও গাছটির রয়েছে এক অভাবনীয় রোমহর্ষক ইতিহাস। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাত থেকে এক ট্রুপ মুক্তিযোদ্ধাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিল গাছটি। রাজাকাররা হানাদার বাহিনীকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ধরিয়ে দিতে এলে মুক্তিযোদ্ধারা সন্ধ্যার আগেই গাছটির ঝুপড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। সেদিন বক আর বাদুড়গুলো বন্ধুর মতোই মুক্তিযোদ্ধাদের সমাদর করেছিল। হানাদার বাহিনী এই গাছের নিচে মিনিট দশেক দাঁড়িয়েও ছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের টিকিটিও ছুঁতে পারেনি। গাছটিকে তাই গ্রামের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের অংশ হিসেবেই স্মরণ করে। উপন্যাসে লেখক মানুষকে দেখেছেন নিজের আয়নায়। সার্থক করে তুলেছেন ঘটনার পরিমাপকে।
বইটি প্রকাশ করেছে ঝালকাঠি পাবলিকেশন্স। ১২৮ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ৩২০ টাকা।
