দশমিনার চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২২, ০৯:১৭

দশমিনার উপকূলীয় চরাঞ্চলে তরমুজ চাষ করেছে চাষিরা। আর ভালো ফলনের জন্য তারা এখন তরমুজ খেত পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। 

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এ অঞ্চলের আবহাওয়া ও পরিবেশ তরমুজ চাষের বেশ উপযোগী এবং কম খরচে অধিক লাভবান হওয়ায় কৃষকরা বেশ আগ্রহী হয়ে উঠেছে। উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১০০ হেক্টর বেশি। লাভবান হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন তরমুজ চাষের দিকে ঝুঁকছেন। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার চর-হাদি, চর-বোরহান, চর-শাহজালাল, চঙ্গারচর, পাতারচর, আউলিয়াপুরসহ উপকূলীয় এলাকার কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তরমুজ চাষে। কেউ পানি সেচ দিচ্ছেন কেউবা আবার নিড়ানি দিয়ে তরমুজ গাছের গোড়া ঠিক করে দিচ্ছেন। কেউ কেউ আবার রোগ প্রতিরোধের জন্য ছত্রাকনাশক, ভিটামিন, সারসহ নানা ধরনের অণুখাদ্য খেতে প্রয়োগ করছেন। এসব চরের জমিতে চোখ রাখলেই দেখা যায় শত শত একর জমিতে চাষ করা হয়েছে তরমুজ। 

পাতার-চরের তরমুজ চাষি আফজাল মৃধা বলেন, গত বছর ছয় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলনও ভালো হয়েছে। লাভ হয়েছে প্রায় তিন লাখ টাকার মতো। তাই এবারও একই পরিমাণ জমিতে তরমুজের আবাদ করেছি। চর-হাদির তরমুজ চাষি আবুল কালাম বলেন, তরমুজ চাষে খরচ কম ও সহজ। গাছগুলোর একটু বাড়তি যত্ন নিলে ফলন ভালো হয়। আকারে অনেক বড় এবং সুস্বাদু হওয়ায় বাজারেও রয়েছে এসব তরমুজের বেশ চাহিদা। ঢাকা, বরিশাল, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এসে সরাসরি খেত থেকে এসব তরমুজ কিনে নিয়ে যান। তাই তরমুজ চাষে ব্যস্ত সময় পার করছি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, স্থানীয় ও অন্যান্য জাতের প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। গত বছর এ উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদন হয়েছে। এবার আরো অধিক পরিমাণে উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। তরমুজ চাষের প্রতি কৃষকরা বেশ আগ্রহ দেখাচ্ছে। আমরাও তাদের কৃষি অফিস থেকে সবসময় পরামর্শ ও সহযোগিতা করে যাচ্ছি। 

ইত্তেফাক/ ইআ