রোগব্যাধি থেকে সতর্কতা অবলম্বনে ইসলাম বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। আজকের বিশ্বে এ কথা বলা হয়—Prevention is better than cure, রোগপ্রতিরোধ রোগনিরাময় থেকে শ্রেয়। শুধু তা-ই নয়, বর্তমানে এ কথাও বলা যায় যে, ‘Prevention is cheaper than cure, রোগপ্রতিরোধ হচ্ছে নিরাময়ের চাইতে সস্তা। এ কারণেই ইসলাম এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে।
হজরত আবদুল্লাহ্ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) পাত্রের মধ্যে নিশ্বাস ফেলতে ও তার মধ্যে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। এটাও একধরনের প্রতিরোধব্যবস্থা। কারণ নাক ও মুখের ভেতর অনেক ধরনের রোগজীবাণু থাকতে পারে, যেগুলো পানিকে দূষিত করে থাকে। আর এতে দেহের মধ্যে রোগের সৃষ্টি হতে পারে।
আল্লাহ তা’আলা বলেন: তার (মৌমাছির) উদর থেকে নির্গত হয় বিবিধ বর্ণের পানীয় (মধু), যাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য (১৬ নম্বর সুরা নাহল, আয়াত ৬৯)। মধুর এই উপকারিতা আজ বিশ্বস্বীকৃত। এদিকে কালো জিরা সম্পর্কে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, তিনি রসুলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছেন, কালোজিরার মধ্যে মৃত্যু ব্যতীত আর সমস্ত রোগের আরোগ্য রয়েছে। বর্তমানে মধু ও কালোজিরা নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় গবেষণা হচ্ছে।
ইসলামে পুত্রসন্তানের খতনা করানোর যে নিয়ম, এটা তাকে বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকে মুক্ত রাখে। দাঁত ও মুখ অপরিষ্কার থাকলে এতে বিভিন্ন প্রকারের রোগব্যাধি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে রসুলুল্লাহ (সা.) দাঁত ও মুখ পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে বিশেষভাবে তাকিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি যদি মানুষের জন্য এটা কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম, তাহলে প্রত্যেক নামাজের ওর সঙ্গে মিসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।
অজুর মধ্য দিয়ে দিনে পাঁচ বার কনুই থেকে হাতের আঙুল পর্যন্ত, পায়ের কবজি থেকে পায়ের আঙুল পর্যন্ত পরিষ্কার করা সম্ভব হয়। নাক, মুখ, কান ও চোখ দিনে পাঁচ বার পরিষ্কার করা সম্ভব হয়ে থাকে। এর ফলে এ সমস্ত অঙ্গে শরীরে কোনো ধূলিকণা বা রোগজীবাণু লেগে থাকতে পারে না।
ইসলামে মদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে মানুষ হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো ভয়াবহ রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারে। নিরাময় সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, নবিকরিম (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা এমন রোগ সৃষ্টি করেননি যার নিরাময়ের ব্যবস্থা দেননি।
জন্মের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে শিশুকে নিয়মিতভাবে মারাত্মক কয়েকটি রোগের প্রতিরোধক টিকা অবশ্যই দিতে হবে। এক্ষেত্রে উপরিউক্ত হাদিস স্মরণ রাখতে হবে যে, রোগও আল্লাহর সৃষ্টি আর নিরাময়ের ব্যবস্থাও তারই। যদি জ্বর হয় তাহলে জ্বর কমানোর জন্য আধুনিক বিশ্বের চিকিৎসা হলো ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে ফেলা কিংবা ঠান্ডা পানি দিয়ে গা মুছে ফেলা। রসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জ্বর জাহান্নামের উত্তাপ থেকে সৃষ্ট, তাই পানি দিয়ে তা ঠান্ডা করো।
লেখক: সরকারের সাবেক সচিব ও এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান
