রেললাইনের পাশে অবৈধ বাজার, বাড়ছে দুর্ঘটনা

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২২, ১৫:৩০

কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ রেল পথের দূরত্ব ১৮ কিলোমিটার। এই রেলপথ যেন মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফতুল্লা, আলীগঞ্জ, পাগলা, ও চাষাঢ়াসহ নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে কাটা পড়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ সব দুর্ঘটনা রোধে এখনো কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি রেল কর্তৃপক্ষকে। এতে উদ্বেগ বাড়ছে সচেতন মহলে। 

জানা গেছে, কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত ৬৩টি স্থানে লেভেল ক্রসিং (রেলপথ পারাপার) থাকলেও এর মধ্যে বৈধ রয়েছে মাত্র আটটি। বাকি ৫৫টি লেভেল ক্রসিংই অনুমোদনহীন বা অবৈধ। বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষ অবগত থাকলেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না তারা। ফলে এসব অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে প্রায় সময়ই ঘটছে মর্মান্তিক ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এমনকি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়েও দুর্ঘটনা এড়ানো যাচ্ছে না। শহরের ১ নম্বর রেলগেট এর জ্বলন্ত উদাহরণ। যেখানে গত ২৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় আনন্দ পরিবহনের একটি বাস। ঘটে হতাহতের ঘটনা। আর রেলেলাইনের পাশে অবৈধ ফুটপাত বা বিভিন্ন দোকান ও বাজার বসার কারণেও দুর্ঘটনা বেড়ে‌ই চলেছে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে উদাসীন কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, সর্বশেষ গত ২ মার্চ ফতুল্লার শাহ-জাহান রোলিং মিল্স এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে সিরু নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এর আগে ২৮ জানুয়ারি একই স্থানে লিটন নামে আরো এক যুবক নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে তিন জনের প্রাণহানি ঘটেছে ফতুল্লার শাহজাহান রোলিং মিলস এলাকায়। ডাবল রেললাইন প্রজেক্টের জন্য বিগত কয়েক বছর যাবত রেললাইনের পার্শ্ববর্তী রাস্তায় পাথর ফেলে রাখায় পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা নেই। তাই শিল্প কারখানাবেষ্টিত এই এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। গোটা রেললাইন জুড়েই দেখা যায় এমন চিত্র। তাছাড়া অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের সুবিধার্থে প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে লেভেল ক্রসিং নির্মাণে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এসব লেভেল ক্রসিংয়ে গেট নির্মাণ এবং তিন জন নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের খরচ বহন করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অরক্ষিত এই অবৈধ লেভেল ক্রসিংগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের নিয়ম থাকলেও দায়িত্বে অবহেলা করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে রেল স্টেশন মাস্টাররা বলছেন, ‘লেভেল ক্রসিংয়ের বিষয়টি আগে তাদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকলেও বর্তমানে ডাবল রেললাইন প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় বিষয়টি আপাতত তারা তদারকি করছেন না। কেবল বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের দায়িত্বে থাকা গেটম্যানের বেতন দেওয়ার কাজ করছেন তারা। নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান জানিয়েছেন, ‘অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিয়েছে। দ্রুতই এর সমাধান হবে। রেলপথের চারপাশে ব্যারিকেড দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এই বিষয়ে চীনা কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। যেহেতু শহরের ভেতর দিয়ে এই রেলপথ সেহেতু এটার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে। বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ইলেক্ট্রিক সুইচ সিস্টেম থাকবে। আর অবৈধগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/ ইআ