ঢাকার মতো বগুড়া শহরেও যানজটের কারণে নাগরিক দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে উঠেছে। যানজট নিরসনে প্রশাসনের নানা উদ্যোগও শহরবাসীকে ভালো কোনো খবর দিতে পারছে না। দিনেদিনে যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে সবকিছু। শহরবাসী এই যানজটের জন্য অবৈধ যানবাহনসহ প্রশাসন, পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগকে দায়ী করেছে।
সকাল থেকেই শুরু হয় শহরের এই যানজট। বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর তীব্রতা প্রকট আকার ধারণ করে। ১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে এক ঘণ্টা লেগে যায়। বেলা ১০টার পর শহরের গোহাইল রোডের সূত্রাপুর থেকে সাতমাথা, শেরপুর রোডের মফিজ পাগলার মোড় থেকে সাতমাথা, দত্তবাড়ী থেকে সাতমাথা, ফতেহ আলী বাজার থেকে থানা মোড়, বড়গোলা টিনপট্টি, চেলোপাড়া, থানামোড় থেকে বাদুরতলা পর্যন্ত তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথার প্রায় সবগুলো সড়কেই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, অবৈধ পার্কিং, রাস্তার দুই পাশে বসা দোকানপাটের কারণে ভয়াবহ যানজট শুরু হয়। ফলে ব্যস্ত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে কয়েক দফা যানজটে ঘণ্টারও বেশি সময় চলে যায়।
এমনকি, ফুটপাত দখল করে বসা দোকানিদের কারণে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতেও স্বস্তি নেই এই শহরে। টিনপট্টি এলাকায় দিনের বেলায় রড সিমেন্ট এবং টিনের ট্রাক থেকে মাল লোড-আনলোড করা হয়। এভাবে একের পর এক মালবাহী ট্রাক প্রবেশ করায় দিনের পুরোটা সময়ই যানজট লেগে থাকে টিনপট্টি এলাকায়। বগুড়া শহরে যানজটের অন্যতম কারণ ব্যাটারিচালিত অবৈধ অটোরিকশা। শহরে অর্ধলাখের বেশি অটোরিকশা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এগুলোর চালকরা কোনো ট্রাফিক আইনের ধার ধারে না।
শহরের নিশিন্দারা এলাকার বাসিন্দা ব্যাংকার কোরবান আলী বলেন, শহরের বড়গোলা বা দত্তবাড়ী হয়ে সাতমাথার দিকে যেতে যেখানে ১০ মিনিট লাগে সেখানে নিশিন্দারা থেকে যেতে লাগছে এক ঘণ্টা। কখনো কখনো আরো বেশি সময় যানজটে পড়ে থাকতে হচ্ছে। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বগুড়ার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাছুদার রহমান হেলাল বলেন, বগুড়া শহরে চলাচল এখন দুরূহ হয়ে পড়েছে।
বগুড়া ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘জনবল কম হওয়ায় ব্যস্ততম শহরে মাঝেমধ্যে একটু যানজট লেগে যায়। আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বগুড়া পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা বলেন, পৌর এলাকা যানজটমুক্ত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ব্যাটারিচালিত রিকশার কারণে শহরে যানজটে অস্থির হয়ে যাচ্ছি আমরা। বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ্উদ্দিন আহমেদ জানান, যানজট নিরসনে সম্প্রতি এক সভায় আমাকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি করে দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। এই কমিটি এক মাসের মধ্যে একটি সুপারিশ প্রণয়ন করবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতে যানজট নিরসনে যা যা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা তা নেওয়া হবে। বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, যানজট নিরসনে সম্প্রতি আমাদের আলোচনা হয়েছে। সেখানে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাজটি হবে ফুটপাতগুলোকে মুক্ত করা। এজন্য প্রতিনিয়ত অভিযান চলছে।
