শারীরিক প্রতিবন্ধকতা প্রতিভাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আকাশছোঁয়া স্বপ্ন আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির কারণে প্রতিবন্ধকতা হার মেনেছে। প্রতিবন্ধী হিসেবে কারো কটু কথা কিংবা মমতাহীন দৃষ্টি নিয়ে ভাবনা নেই তার। আর দশজন স্বাভাবিক যুবকের মতোই এগিয়ে চলছেন সমানতালে। দৃঢ় মনোবলই তার স্বপ্ন পূরণের হাতিয়ার।
বলছিলাম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী জিহাদ হাসানের কথা। রবিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে কথা হয় জিহাদের।
জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার বাসিন্দা মো. ফারুক হোসেন ও রেহানা আক্তার দম্পতির দুই সন্তানের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ জিহাদ। জন্মের পরে স্বাভাবিক থাকলেও মাত্র তিন বছর বয়সে টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ওর শারীরিক বেড়ে ওঠা ২ ফুট ৬ ইঞ্চিতে থেমে যায়। স্বাভাবিক ভাবে চলাফেরা করতে পারেন না। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় যাকে বলে, একোন্ড্রোপ্লাসিয়া মূলত এরপর থেকেই শুরু হয় জীবনযুদ্ধ। তবে এ যুদ্ধে হার না মেনে একে একে সফলতার সাথে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে পা রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে।
জিহাদ বলেন, আমরা যদি সামনে আগাতে চাই, তাহলে পিছনে তাকানো যাবে না। চারপাশের মানুষ যে যাই বলুক নিজের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। ছোটবেলায় মা আমাকে নিয়ে অনেক কষ্ট করেছেন। সত্যি বলতে পরিবারের সবার সহযোগিতা না পেলে এ পর্যন্ত আসা সম্ভব হতো না। আমি যখন যা করতে চেয়েছি সবসময় তারা আমাকে সাহায্য করেছেন।
আমার বোন আমাকে সবসময় বলতেন, তোমার প্রতিবন্ধকতা জয় করতে হলে তোমাকে পড়াশোনা ঠিকভাবে করতে হবে। পড়ালেখার মাধ্যমেই জীবনে সবকিছু অর্জন করতে হবে। একথাটি মাথায় রেখেই আমি সবসময় কাজ করেছি।
তার বোন ডা. ফারজানা মুনা বলেন, আসলে প্রতিবন্ধীদের কখনো পিছিয়ে রাখা ঠিক না। ওদেরকে দ্বিগুণ উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়ে স্বাভাবিক মানুষের স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়া যায় সে চেষ্টা করতে হবে।
জানতে চাইলে জিহাদের মা রেহানা আক্তার আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, ছোটবেলা থেকেই ও একটু চঞ্চল প্রকৃতির এবং পড়াশোনার প্রতি অনেক আগ্রহ। ওর চেষ্টার মাধ্যমেই ও এ পর্যন্ত এসেছে। অনেকেই দেখে হাসিঠাট্টা করে তবে তাদের বোঝা উচিত ওদের এই অস্বাভাবিকতার পেছনে অবশ্যই কোনো কষ্টের গল্প থাকতে পারে। আমার চাওয়া, অন্য সবার মতো ওরাও যাতে সমাজে বাধাহীনভাবে চলতে পারে। ওদেরকে যাতে ব্যাঙ্গ বিদ্রূপ বা হাসিঠাট্টা না করে সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া হয়।
