আবাহনী ম্যাচ জিতেছে, শীর্ষে উঠেছে। কিন্তু কোচের মন জেতেনি। লিগের প্রথম ম্যাচের মতোই ইরানি কোচের কণ্ঠে হতাশা ঝরেছে খেলার মান নিয়ে। খেলাটা ভালো হলে তাদের টেনশনে থাকতে হতো না, যদিও কোনোরকমে ২-১ গোলে আরামবাগকে হারিয়ে টানা দুই জয় নিয়ে গ্রামীণফোন প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গেই আছে চ্যাম্পিয়নরা!
শুরু থেকেই আরামবাগ ডিফেন্সিভ, কেবল কাউন্টার অ্যাটাকেই তারা আক্রমণে উঠছিল। এই সুযোগে তাদের চেপে ধরে আবাহনী। বিশেষ করে ডান দিক দিয়ে আতিকুর রহমান ও আবদুল বাতেনের ঝাঁজালো আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছিল আরামবাগের ডিফেন্স। কয়েকবার গোলমুখে বিপদের আভাস দিলেও গোল বের করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১৯ মিনিটে গোলমুখ খুলে দিলেন আরামবাগের মনিরুজ্জামান মামুন। বাঁ দিক থেকে আবাহনীর ওয়ালী ফয়সালের ক্রসে গোলরক্ষক মিতুল হাসান ফ্লাইট মিস করলে মামুন বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ঢুকিয়ে দেন নিজেদের পোস্টে। এই আত্মঘাতী গোলের মিনিট পাঁচেক পরেই সামনিকের দুর্দান্ত সাইডভলি, ঘানাইয়ান ইব্রাহিমের ক্রসে ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড ম্যাচের সেরা গোলটি করে ২-০ গোলে এগিয়ে নেন আবাহনীকে। পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল খাওয়ার পর যেন হুঁশ ফেরে আরামবাগের এবং ২৬ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে পেনাল্টি আদায় করে নেয়। আকাশি-হলুদের গোলরক্ষক শহীদুল আলম মেরে বসেন নাইজেরিয়ান ওচোন্ডো মরিসের পায়ে, তাতেই পেনাল্টি। এমন অপরাধের শাস্তি হয় সাধারণত লাল কার্ডে, যদিও রেফারি জসীম উদ্দিন আবাহনীর গোলরক্ষককে সতর্ক করে দিয়েছেন হলুদ কার্ড দেখিয়ে। এরপর আরামবাগের উগান্ডান ইদ্রিস কাসেরি পেনাল্টি কিকে ব্যবধান (২-১) কমান।
কিন্তু নূ্যনতম ব্যবধানের ওপর ভরসা করা তো যায় না। ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও যে আবাহনী কাজে লাগাতে পারেনি। পেনাল্টিতেও গোল করতে পারেন না তাদের দ্য সিলভা। ৫৪ মিনিটে তৌহিদকে ফাউল করে আরামবাগের ডিফেন্ডার মোরসালিন পারভেজ পেনাল্টির বিপদ ডেকে আনেন। কিন্তু ওই ব্রাজিলিয়ানের পেনাল্টি কিক ঠেকিয়ে দিয়ে গোলরক্ষক মিতুল হাসান ড্রয়ের সম্ভাবনা টিকিয়ে রাখেন। অন্যদিকে আবাহনী শিবিরে ভর করে শঙ্কা, আরেকটি গোল শোধ হলেই ম্যাচ ড্র! আসল সমস্যা তাদের গোল করার মতো ফরোয়ার্ড নেই। সিলভা গত মৌসুমের মতোই এবারও ভোঁতা, ঘানাইয়ান ফ্রাঙ্কের জায়গায় একাদশে ঢুকেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান। আবাহনীর কোচ আরদেশির অবশ্য কৃতিত্ব দিয়েছেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে, 'আগের ম্যাচের তুলনায় এই ম্যাচের প্রতিপক্ষের (আরামবাগের) ডিফেন্স বেশ জমাট ছিল। তাই ফরোয়ার্ডদের জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল গোল বের করাটা। সিলভাকে পছন্দের কারণ সে হেড করতে পারে আর ডিফেন্সের সঙ্গে চ্যালেঞ্জে যায়। ফ্রাঙ্ক ভালো, তাকে অন্যভাবে ব্যবহার করার চিন্ত করছি।' আসলে কালকের ম্যাচে বিদেশিদের মধ্যে সেরা পারফরমার ইয়োকো সামনিক। শুধু গোল করেছে বলে নয়, মাঝমাঠ থেকে খেলা তৈরি করায়ও দারুণ ভূমিকা ছিল তাঁর। আরেকটি সাইডভলি পোস্ট ফিরিয়ে না দিলে ৭৯ মিনিটে পেয়ে যেতেন তিনি নিজের দ্বিতীয় গোল। ওদিকে আরামবাগের অধিনায়ক খলিলুর রহমান মনে করছেন, 'আত্মঘাতী গোলটাই আমাদের কাল হয়েছে। ডিফেন্সিভ হয়ে খেলতে গিয়ে শুরুতে চাপে পড়ে গিয়েছিলাম আমরা।' শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল সেই চাপ, ৮৮ মিনিটে নাইজেরিয়ান জোয়েলকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে লাল কার্ড দেখে। আর নতুন চাপ লিগের প্রথম দুই ম্যাচ হারার। কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে টেনে আনছে রেলিগেশনের প্রসঙ্গও! তাদের কোচের চোখে সেটা অবশ্য বাড়াবাড়ি, 'মুক্তিযোদ্ধা-আবাহনী বড় দল। আমাদের মানের দলের বিপক্ষে ঠিকই জিতব আমরা।'
