শীতে আইসক্রিম কম্পানিগুলোর চোখ থাকে বাণিজ্য মেলার দিকে

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০১২, ১৯:৪৬
শীতকালে আইসক্রিমের চাহিদা কমে যায়। তাই বছরের এ সময়ের জন্য আইসক্রিম কম্পানিগুলোর রয়েছে বিপণনের ভিন্ন কৌশল। শীতের সময় মানুষ দোকানে গিয়ে বা রাস্তায় ভ্যান থামিয়ে আইসক্রিম চাইবে_এমনটা তারা আশা করে না। বরং মানুষের আনাগোনা বেশি হয়_এমন উৎসব বা মেলাকে ঘিরে তারা স্থির করে উৎপাদন ও সরবরাহ পরিকল্পনা। শীতের সবচেয়ে বড় আয়োজন ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মাসজুড়ে চলে এ মেলা। সারা দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এ মেলায় হাঁটতে হাঁটতে শীতের দুপুরেও আইসক্রিমের তেষ্টা পেতে পারে_সব বয়সী মানুষেরই। সেই তেষ্টা মেটাতে কম্পানিগুলো প্রতিবছরের মতো এবারও প্রস্তুত রয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় আইসক্রিম কম্পানি ঈগলু, পোলার এবং কোয়ালিটির বিপণন কর্মকর্তারা জানান, শীতের দুই মাস তাঁদের বিক্রি কম থাকলেও বাণিজ্য মেলায় বিক্রি ভালোই হয়। বিক্রির চেয়েও এ সময়ে বাজারে উপস্থিতি ধরে রাখা তাঁদের কাছে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। জানুয়ারি মাসজুড়ে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু মেলায় আইসক্রিমের স্টলগুলোয় বিক্রির হিসাব বিবেচনা করলে মনেই হয় না শীতকাল চলছে। মেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন ঈগলু আইসক্রিম প্রস্তুতকারী আবদুল মোনেম গ্রুপের ব্র্যান্ড ম্যানেজার অমিত রায়। তিনি বলেন, 'মেলায় অংশগ্রহণের মূল উদ্দেশ্য কম্পানির ব্র্যান্ড প্রোমোশন। যদিও বাণিজ্য মেলা অনুষ্ঠিত হয় শীতের মৌসুমে। তবু সেখানে প্রচুর বিক্রি হয়। গত বছর আমাদের প্যাভিলিয়নে এসেছেন অসংখ্য ক্রেতা। আবার আমাদের স্টলের সামনে এসে ছবি তুলেছেন অনেকে। বাণিজ্য মেলায় মনেই হয় না, মানুষ শীত মৌসুমে আইসক্রিম খায় না। বাণিজ্য মেলায় আমাদের আইসক্রিমের দাম বাড়ানো হয় না। সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য যা থাকে, তাতেই বিক্রি হয়। গত ১৫ বছর আমরা বাণিজ্য মেলায় অংশ নিচ্ছি। মেলায় প্যাভিলিয়ন ও অন্যান্য খরচ বাদে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয়।' একই ধরনের অনুভূতি প্রকাশ করেন পোলার আইসক্রিমের মার্কেন্টিং ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, 'শীতে মাত্র দুই মাস আইসক্রিম বিক্রি কিছুটা কমে যায়। আবার উৎসবগুলোয় প্রচুর আইসক্রিম বিক্রি হয়। যেমন পহেলা বৈশাখ, ঈদে অন্যান্য সময়ের তুলনায় আইসক্রিমের বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বাণিজ্য মেলায় আমরা ক্রেতাদের প্রচুর সাড়া পাই।' কোয়ালিটি আইসক্রিম গতবারের বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণ না করলেও এবার মেলায় থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন সানোয়ারা গ্রুপের পরিচালক (বিক্রয়) কামরুল ইসলাম। তিনি জানান, বাণিজ্য মেলায় আইসক্রিম গ্রাহকদের ভালো সাড়া মেলে। এ দেশের ক্রেতারা শীতকালে আইসক্রিম এড়িয়ে চলেন। কিন্তু ইউরোপে সারা বছরই আইসক্রিম সমানতালে বিক্রি হয়। এ দেশে সাধারণত মার্চ থেকে আগস্ট_এ সময়ে আইসক্রিমের বিক্রি বেশি থাকে। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে বিক্রি কমে যায়। দুধ, চিনির সঙ্গে আরো কিছু উপাদান মিশিয়ে তৈরি হয় বাহারি আইসক্রিম। এখন নগরজীবনে প্রাত্যহিক খাদ্য তালিকায় যোগ হয়েছে হিমশীতল আইসক্রিম। উৎসব কিংবা পালা-পার্বণে এ দেশে আইসক্রিমের চাহিদা বাড়ে। গরম কিংবা শীতকালে আইসক্রিমের চাহিদা ওঠা-নামা করে। আইসক্রিম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশের আইসক্রিম বাজারের আকার প্রায় এক হাজার কোটি টাকার। বছরে বাজার প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩০ শতাংশ। দেশেই উৎপাদিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের আইসক্রিম। ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহে স্থাপিত হয়েছে অসংখ্য আইসক্রিম পার্লার। এসব পার্লারে নানা পদের আইসক্রিমের সঙ্গে পাওয়া যায় আইসক্রিম কেক। দোকানের নাম দেখে জানা যাবে কোন কম্পানির আইসক্রিম পাওয়া যায় সেখানে। যেমন_ঈগলুর শপগুলোর নাম চাউবেলা, কোয়ালিটির শপের নাম সাব জিরো। অমিত রায় বলেন, 'রাস্তাঘাটের সমস্যা বাংলাদেশে আইসক্রিম শিল্প বিকাশে অন্তরায়। এ ছাড়া রয়েছে বিদ্যুৎ সমস্যা। এ কারণে বিদেশের কোনো কম্পানি আইসক্রিম নিয়ে আসছে না। আমরা যেসব যানবাহনে আইসক্রিম সরবরাহ করি, এটি পুরোপুরি রেফ্রিজারেটেড। এর তাপমাত্রা -২২ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে রাখতে হয়। রাস্তাঘাট ভালো না হলে পণ্যের খরচ বেশি হয়। আমাদের বিদ্যুৎ খরচ বেশি হয়। কারণ আইসক্রিম সব সময় ফ্রিজে রাখতে হয়। জনপ্রিয়তা এবং মার্কেট শেয়ার চিন্তা করলে ঈগলু সেরা। আমরা ৬৫ শতাংশ বাজারে অবস্থান করছি। এ কারণে আমাদের টেনশনও বেশি।' আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বাজার তৈরি হয় লজিস্টিকস, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কমিউনিটি আর ইম্পোর্টেড ম্যাটেরিয়ালের ওপর। আইসক্রিম তৈরির উপাদানগুলোর মধ্যে পানি আর চিনি ছাড়া সবই আনতে হয় বিদেশ থেকে। আমদানি করা পণ্যের দাম ওঠা-নামা করে; কিন্তু সে অর্থে আইসক্রিমের দাম বাড়ে না। গত বছরের পর আইসক্রিমের দাম আর বাড়েনি।